প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক
প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান শুক্রবার সকালে চীনের পিকিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। এর আগে একই স্থানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান চাও লে-চি।
স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন
বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী সকাল সাড়ে ৯টায় গ্রেট হলে পৌঁছান। তিনি তিয়ানআনমেন স্কয়ারে অবস্থিত পিপলস হিরোস মনুমেন্টে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে চীনের বিপ্লবী বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় একটি বিশেষ লাল-সবুজ পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। উভয় দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয় এবং লাস্ট পোস্ট বাজানো হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে চীনের বিপ্লবী বীরদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা
স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১০ মিনিটে স্কয়ারে পৌঁছালে চীনা সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে। প্রধানমন্ত্রী তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে বেইজিংয়ে চার দিনের সরকারি সফরে রয়েছেন।
বৈঠক ও চুক্তি স্বাক্ষর
বৃহস্পতিবার গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার জন্য ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিনিধিদলসহ লি ছিয়াং আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেন।
দলীয় পর্যায়ের বৈঠক
একই দিন বেইজিংয়ের ডায়াওয়ুতাই রাজ্যিক অতিথিশালায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রী লি গুওইং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রী ডায়াওয়ুতাইয়ে চীন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উন্নয়ন কাউন্সিল (সিসিপিআইটি) ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) যৌথ আয়োজনে 'ইনভেস্ট বাংলাদেশ' শীর্ষক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারিক রহমান চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইক্সিংয়ের সঙ্গে দলীয় পর্যায়ের বৈঠক করেন।
বিনিয়োগ ও বাণিজ্য আলোচনা
চীনে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেশ কয়েকটি বড় শিল্প গ্রুপের শীর্ষ নির্বাহীরা সাক্ষাৎ করেন। চীনা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা, চীন রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন, চীন রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশনের প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী, মন্ত্রী ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তার সঙ্গে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় আরও কার্যকর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
সংক্ষিপ্ত প্রতিনিধিদল
প্রধানমন্ত্রী বুধবার বেইজিং পৌঁছান, যেখানে তাকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ও লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। মালয়েশিয়া ও ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের গ্রীষ্মকালীন সম্মেলনের মতো এই সফরেও তাঁর প্রতিনিধিদল মাত্র ২৫ সদস্যের, যার মধ্যে ১১ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা ছিলেন।
সফরের দ্বিতীয় পর্যায়
তারিক রহমানের চীন সফর তাঁর প্রথম সরকারি বিদেশ সফরের দ্বিতীয় ধাপ। প্রথম ধাপে তিনি মালয়েশিয়া সফর করেন। সেখানে মালয়েশিয়ার রাজা, প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন। দ্বিতীয় ধাপে প্রধানমন্ত্রী ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের আমন্ত্রণে চীনের দালিয়ানে যান এবং সেখানে সামার দাভোস নামে পরিচিত নিউ চ্যাম্পিয়নস বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেন। সম্মেলনে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, মন্টিনিগ্রো, মঙ্গোলিয়া, গিনি ও কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীসহ বিশ্বের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ওই সম্মেলনে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারিক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যেখানে তিনি সরকার গঠনের পর চার মাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন জলবায়ু উদ্যোগ তুলে ধরেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।
প্রত্যাবর্তন
প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার বিকেল ৫টায় বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।



