বেইজিংয়ে অবস্থানকালে শুক্রবার সকালে গ্রেট হল অব দ্য পিপলসে চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সাথে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা তারিক রহমান। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে তিনি তিয়ানআনমেন স্কয়ার থেকে গ্রেট হলে পৌঁছান।
তিয়ানআনমেন স্কয়ারে শ্রদ্ধা নিবেদন
এর আগে শুক্রবার সকালে বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কয়ারে পিপলস হিরোস মনুমেন্টে লাল-সবুজ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান প্রধান উপদেষ্টা তারিক রহমান। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং লাস্ট পোস্ট বাজানো হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি কিছু সময় নীরবতা পালন করেন চীনের বিপ্লবী বীরদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে।
স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১০ মিনিটে স্কয়ারে পৌঁছালে চীনা সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে।
চার দিনের সরকারি সফর
প্রধান উপদেষ্টা তারিক রহমান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বেইজিংয়ে অবস্থান করছেন। স্কয়ার থেকে তিনি গ্রেট হল অব দ্য পিপলসে ঝাও লেজির সাথে বৈঠকে যোগ দেন। পরে শুক্রবার একই স্থানে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
তারিক রহমান ২১ জুন মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে তার প্রথম বিদেশ সফর শুরু করেন। এরপর সোমবার রাতে চীনের দালিয়ান শহরে যান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সামার দাভোস ২০২৬-এ যোগ দিতে। সেখানে দুই দিনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বুধবার বিকেলে বেইজিংয়ে পৌঁছান।
১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলসে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের নেতৃত্ব দেন প্রধান উপদেষ্টা তারিক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং। বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর তারিক রহমান তার প্রতিনিধিদলসহ লি ছিয়াংয়ের আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দেন।
একই দিনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে রাজধানীর দিয়াওয়ুতাই রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রী লি গুওইংও দিয়াওয়ুতাই রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাৎ করেন।
তারিক রহমান দিয়াওয়ুতাই হোটেলে চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি) ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে আয়োজিত 'ইনভেস্ট বাংলাদেশ' শীর্ষক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন।
দ্বিপক্ষীয় ও বিনিয়োগ আলোচনা
বিএনপি চেয়ারম্যান তারিক রহমান দিয়াওয়ুতাই রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিংয়ের সাথে দলীয় পর্যায়ের বৈঠক করেন। চীনে অবস্থানকালে বেশ কয়েকটি বড় শিল্প গ্রুপের শীর্ষ নির্বাহীরা তার সাথে সাক্ষাৎ করেন।
চীন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা, চীন রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশনের প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী, মন্ত্রী ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও তার সাথে সাক্ষাৎ করে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে পৌঁছালে তাকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান, লাল গালিচা সংবর্ধনা ও অসাধারণ আতিথেয়তা দেয়া হয়।
ছোট প্রতিনিধিদল
মালয়েশিয়া ও ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের গ্রীষ্মকালীন সম্মেলন সফরের মতো এই সফরেও মাত্র ২৫ সদস্যের একটি ছোট প্রতিনিধি দল নিয়ে এসেছেন তিনি, যার মধ্যে ১১ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা রয়েছেন।
তারিক রহমানের চীন সফর তার প্রথম সরকারি বিদেশ সফরের দ্বিতীয় ধাপ। প্রথম ধাপে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে মালয়েশিয়া সফর করেন। স্বল্প সময়ের সফর হলেও তিনি মালয়েশিয়ার রাজা, প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বিদেশ সফরের দ্বিতীয় ধাপে প্রধান উপদেষ্টা ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের আমন্ত্রণে চীনের দালিয়ানে যান। সেখানে তিনি সামার দাভোস নামে পরিচিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের নিউ চ্যাম্পিয়ন্স বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেন। সম্মেলনে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, মন্টিনিগ্রো, মঙ্গোলিয়া, গিনি ও কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীসহ বিশ্বের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও তারিক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি সরকার গঠনের পর চার মাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন জলবায়ু উদ্যোগ তুলে ধরেন, যা আন্তর্জাতিক মহল থেকে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।
প্রধান উপদেষ্টা শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।



