রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান গোলটেবিল বৈঠকে
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন এবং এই সংকটের টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, গণমাধ্যমের সম্পাদক, মানবাধিকার কর্মী, নাগরিক সমাজ ও থিংকট্যাংকের প্রতিনিধিরা।

গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনা

সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থটের (বিআইআইটি) কনফারেন্স হলে সেন্টার ফর সিভিলাইজেশনাল ডায়ালগের (সিসিডি) উদ্যোগে এবং বিআইআইটি ট্রাস্টের সহযোগিতায় আয়োজিত 'নেভিগেটিং রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: ইজ রিপ্যাট্রিয়েশন অ্যা ডিস্ট্যান্ট ড্রিম?' শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়।

বৈঠকে সিসিডির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট ও বিআইআইটির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এম আবদুল আজিজের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তুরস্কের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজচিন্তক ও দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইয়াসিন আকতাই। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডেইলি সাবাহর সিনিয়র সম্পাদক ইসাম শেহাদাত এবং আল-কুদস ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউশনের উপ-মহাপরিচালক ড. আইমান জেইদান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা

বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে প্রফেসর ড. ইয়াসিন আকতাই বলেন, “বাংলাদেশ ও তুরস্কের বন্ধুত্ব এবং অংশীদারিত্বের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে তুরস্ক ছিল, আছে এবং থাকবে। তুরস্ক চায়- রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত হোক। বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের এই উদারতা ও মানবিকতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অধ্যাপক ড. এম. আবদুল আজিজ বলেন, “মুসলিম বিশ্বের জন্য রোহিঙ্গা ট্র্যাজেডি বর্তমান সময়ের অন্যতম মানবিক সংকট। সমস্যাটি কেবল দুটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন মানবাধিকার, শান্তি, আন্তর্জাতিক আইন, নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, অভিবাসন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।”

স্থায়ী সমাধানের উপায়

এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজন আন্তর্জাতিক সংহতি, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং মানবতার প্রতি বৈশ্বিক দায়িত্ববোধ। এক্ষেত্রে বিশ্ব সম্প্রদায়ের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা, কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, মানবাধিকার সংগঠন, থিংকট্যাংক প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত পদক্ষেপ অপরিহার্য।

আলোচনায় অংশ নেন- সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, এশিয়ান ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ভিসি অধ্যাপক ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রাওয়ার চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুল হক, দৈনিক নিউ নেশনের সাবেক সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, তুরস্কে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাসুদ মান্নান এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম।

বক্তাদের মতামত

বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু অনেক বেশি উপেক্ষিত। তারা অমানবিক জীবন যাপন করেছে। সংকটের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব কক্সবাজার ও ভাসানচরের আশ্রয়দানকারী জনগোষ্ঠীর ওপর উল্লেখযোগ্য সামাজিক-অর্থনৈতিক, পরিবেশগত, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করেছে। অনিয়মিত অভিবাসন, আন্তঃদেশীয় অপরাধ, মানবপাচার, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর এর সুদূরপ্রসারি প্রভাব দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। ফলে রোহিঙ্গাদের সংকট সমাধান বিশ্বসমাজের দায়িত্ব।

তাছাড়া মুসলিম-প্রধান দেশগুলোর মধ্যকার সংহতি আরও শক্তিশালী করতে হবে। জাতিসংঘ, আসিয়ান, ওআইসিসহ উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং মানবিক সংস্থাগুলোর অংশীদারিত্ব বিস্তৃত করতে হবে। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রণী মানবিক অংশীদার তুরস্ককেও আন্তর্জাতিক ফোরামে রোহিঙ্গাদের অধিকার ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ, নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব প্রদান, রাখাইন অঞ্চলের শান্তিপূর্ণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।