খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ‘বি কোম্পানি’ নামে পরিচিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। ঢাকা মহানগর এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেপ্তারের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খুলনা নগর থেকে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলবার, একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন ও ৭ দশমিক ৬৫ বোরের দুটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য
আজ সোমবার দুপুরে নগরের খালিশপুরে ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে হাজির করা হয়। সেখানে অভিযান ও গ্রেপ্তারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ডিবির উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে খুলনা মহানগরে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ অভিযানের সূচনা
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১ জুন চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী অপরাধী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সমন্বিত বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে গোয়েন্দা নজরদারি, গোপন তথ্য সংগ্রহ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসীদের অবস্থান শনাক্তের কাজ চলছিল।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয়
ডিবির এই কর্মকর্তা জানান, এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রোববার রাতে ঢাকা মহানগরের বংশাল এলাকার একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন বরিশালের কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠি গ্রামের বাসিন্দা আল-আমিন (২৯), যিনি বর্তমানে খুলনার শেখপাড়া লোহাপট্টি এলাকায় ভাড়া থাকতেন; মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার পিঠাভোগ গ্রামের বাসিন্দা তুষার শিকদার (৩৮), যিনি সোনাডাঙ্গার শেখপাড়া মেইন রোড এলাকায় বসবাস করতেন; সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কারপাসডাঙ্গা গ্রামের মো. আসিফ (২৫), যিনি নগরের নবীনগর এলাকায় থাকতেন এবং খুলনা সদরের টুটপাড়া জোড়াকল বাজার এলাকার সাজ্জাদ হোসেন সাব্বির (১৮)।
পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরের সোনাডাঙ্গা থানার গোবরচাকা এলাকার আবরার ফয়সাল ওরফে রাফিনকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়।
অস্ত্র উদ্ধার ও মামলা
সংবাদ সম্মেলনে ডিবির উপপুলিশ কমিশনার বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা খুলনার চিহ্নিত বি কোম্পানি নামের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে একাধিক মামলা বিচারাধীন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা আত্মগোপনে থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খুলনা নগরের একটি এলাকা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, একটি রিভলবার ও ৭ দশমিক ৬৫ বোরের দুটি গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
অভিযান অব্যাহত থাকবে
মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া আরও বলেন, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে খুলনা মহানগরে সক্রিয় অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, তাদের সহযোগী এবং অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নগরবাসীর নিরাপত্তা উদ্বেগ
খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত অপরাধের বিভিন্ন ঘটনায় ঘুরেফিরে কয়েকটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নাম উঠে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির ঘাটতি ও দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে এসব গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তার করেছে। ফলে নগরবাসীর মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে। তবে সাম্প্রতিক বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



