ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তেহরানজুড়ে লাখো মানুষের ঢল নামলেও এর পেছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক বিভেদ ও নাগরিক উদাসীনতা। রবিবার খামেনির কফিনের সামনে রাষ্ট্রীয় শীর্ষ কর্মকর্তা ও তার তিন ছেলের উপস্থিতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন দেশটির বেশ কয়েকজন সাবেক প্রেসিডেন্ট, যা তেহরানের প্রচারিত ‘জাতীয় ঐক্য’র দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
জানাজার আয়োজনে রাজনৈতিক বিভেদ
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কঠোর বার্তা দিতেই এই জানাজা অনুষ্ঠানকে বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে। তবে ৯০ মিলিয়নের এই দেশে খামেনির মৃত্যুকে ঘিরে নাগরিকদের মনোভাব সম্পূর্ণ দুই ভাগে বিভক্ত। কড়া শাসনব্যবস্থায় ক্ষুব্ধ অনেক ইরানি যেমন এই আয়োজনকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, তেমনি অনেকে চরম উদাসীনতা প্রকাশ করে জ্যামাকীর্ণ শহর ছেড়ে উত্তর দিকে কাস্পিয়ান সাগরের দিকে সপরিবারে ঘুরতে বের হয়েছেন। ফলে চালুস রোড ও তেহরান-উত্তর এক্সপ্রেসওয়েতে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের আলি বায়েজ জানান, বিপুল ভিড় জমিয়ে শাসনব্যবস্থার ধারাবাহিকতা প্রদর্শনের চেষ্টা করা হলেও সংস্কারপন্থি সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি ও হাসান রুহানি এবং একসময়ের কট্টরপন্থি শাসক মাহমুদ আহমাদিনেজাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে কেবল অনুগতদের নিয়ে আয়োজনটি সম্পন্ন করা হয়েছে। অবশ্য আহমাদিনেজাদকে পরে সোমবারের মিছিলে সাধারণ মানুষের মাঝে হাঁটতে দেখা গেছে।
নতুন নেতার অনুপস্থিতি ও গুঞ্জন
এদিকে খামেনির মৃত্যুর পর নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিযুক্ত তার ছেলে মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতিও নানান গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ইরানে ভিন্নমত দমনে ধরপাকড় তীব্র করা হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মে মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভকারী, সাংবাদিক, আইনজীবী ও অধিকারকর্মীসহ ৬ হাজারেরও বেশি মানুষকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমনকি গত মাসে ‘শত্রুর সঙ্গে সহযোগিতার’ অভিযোগে আরও ৩ হাজার মানুষকে গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিচার বিভাগের মুখপাত্র আসগর জাহাঙ্গীর।
নাগরিকদের ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া
তেহরানের এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, যিনি মানুষের জীবন ধ্বংস করেছেন, তার জন্য পুরো শহর স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এক নারী শিক্ষিকা সরকারের দাবি করা ১০ বা ২০ মিলিয়ন মানুষের উপস্থিতির সংখ্যাকে সম্পূর্ণ ‘বানোয়াট’ ও অতিরঞ্জিত বলে উল্লেখ করেছেন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ট্রিতা পার্সি মনে করেন, খামেনির মৃত্যুতে তার সমর্থক ঘাঁটি এলাকায় মানুষের মাঝে আবেগ ও ক্ষোভের সঞ্চার হলেও তা কোনোভাবেই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রকৃত চিত্র নয়।
সূত্র: সিএনএন



