মঙ্গলবার (৩০ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৯তম দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. নাজিবুর রহমান চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিলের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘এখন কি বলা যাবে তিনি ঋণখেলাপি ছিলেন?’
পূর্ববর্তী বিতর্কের প্রসঙ্গ
এর আগে গত ১৮ জুন সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার ‘ঋণখেলাপিদের এই সংসদে দাঁড়িয়ে বলতে হচ্ছে’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়। তখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন উল্লেখ করে বলেন, অনুপস্থিত কোনো ব্যক্তির বিষয়ে সংসদে মন্তব্য করার সুযোগ নেই।
নাজিবুর রহমানের বক্তব্য
মঙ্গলবার সেই প্রসঙ্গ টেনে নাজিবুর রহমান বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমাদের একজন সংসদ সদস্য আপনার (স্পিকার) কাছে জানতে চেয়েছিলেন, সংসদে কোনো ঋণখেলাপি আছেন কি না। তখন আপনি বলেছিলেন, বিষয়টি বিচারাধীন। আজকে ঋণখেলাপির দায়ে একজন ব্যক্তির মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এখন কি বলতে পারব তিনি ঋণখেলাপি ছিলেন?’
স্পিকারের জবাব
জবাবে স্পিকার বলেন, ‘এটা পয়েন্ট অব অর্ডার হলো না। একজনের সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি থাকবে না, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন আদেশ জারি করলে তখন বিষয়টি জানানো যাবে। তাই নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য
এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘আমরা সেদিন বলেছিলাম, এই সংসদে কোনো ঋণখেলাপি সদস্য নেই। ঋণগ্রস্ত থাকতে পারেন। আজ যে প্রসঙ্গটি তোলা হলো, সেটি আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে তিনি তো সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। তিনি সংসদ সদস্য নন। তাঁর প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ হয়েছিল, উচ্চ আদালত রায় দিয়েছেন। এ অবস্থায় এটি কোনো পয়েন্ট অব অর্ডার নয়।’
স্পিকারের চূড়ান্ত মন্তব্য
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকার বলেন, ‘পয়েন্ট অব অর্ডারের বিষয়ে আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে দেন। তবে তিনি সংসদ সদস্য নন—আপনার এই ব্যাখ্যা ঠিক আছে।’
প্রসঙ্গ: আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হলেও আদালতের আদেশের কারণে ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ হয়নি। পরে শুনানি শেষে মঙ্গলবার (৩০ জুন) আপিল বিভাগ তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের রায় দেন। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আদালতের পূর্ণাঙ্গ আদেশ পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।



