গাজায় গণহত্যা, লেবাননে আগ্রাসন এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই চরম কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা ও বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া তীব্র ক্ষোভের মুখে নিজেদের অস্তিত্ব জাহির করতে এবং স্বীকৃতি পেতে এখন বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর দিকে ঝুঁকছে ইসরায়েল।
নতুন মিত্র: রিপাবলিকা স্রেপস্কা
এই কৌশলের অংশ হিসেবে ইসরায়েলের সর্বশেষ নতুন মিত্র হয়ে উঠেছে বসনিয়ার সার্ব-নিয়ন্ত্রিত বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল রিপাবলিকা স্রেপস্কা। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, মূলত ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঐক্য নস্যাৎ করতেই ইসরায়েল এই ধরনের বিতর্কিত পদক্ষেপ নিচ্ছে।
সম্প্রতি বসনিয়ার ত্রিদলীয় প্রেসিডেন্সির সার্ব সদস্য জেলকা সভিজানোভিচ ইসরায়েলে সপ্তাহব্যাপী এক সফর শেষ করেছেন। সফরে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সাআরের মতো শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে এই বৈঠকটি তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় তুলেছে।
পতাকা বিতর্ক ও কূটনৈতিক প্রতিবাদ
বৈঠকে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, সভিজানোভিচ বসনিয়ার প্রেসিডেন্সির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তার পাশে বসনিয়ার কোনও জাতীয় পতাকা ছিল না। এর পরিবর্তে নেতানিয়াহুর পাশে স্থান পেয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল রিপাবলিকা স্রেপস্কার পতাকা।
ইসরায়েলের অপর এক নতুন মিত্র সোমালিল্যান্ড-এর মতো স্রেপস্কাও একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। সভিজানোভিচের দল অ্যালায়েন্স অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ এই অঞ্চলটিকে বসনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছে, যা বসনিয়ার মোট ভূখণ্ডের প্রায় অর্ধেক।
এই বৈঠকের প্রতিক্রিয়ায় বসনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলমেদিন কোনাকোভিচ কূটনৈতিক প্রোটোকল লঙ্ঘন এবং বসনিয়ার সার্বভৌমত্বের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের অভিযোগে ইসরায়েলকে একটি প্রতিবাদপত্র পাঠিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন
কিংস কলেজ লন্ডনের ওয়ার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ভুক ভুকসানোভিচ বলেন, "রিপাবলিকা স্রেপস্কার নেতৃত্ব হিসাব কষে দেখেছে যে এই মুহূর্তে তাদের ইসরায়েলের মতো শক্তিশালী অংশীদার প্রয়োজন। তারা ইসরায়েল এবং তার লবিস্ট গ্রুপগুলোকে মার্কিন হোয়াইট হাউসে প্রবেশের পথ হিসেবে মনে করে।"
ভুকসানোভিচ আরও বলেন, "ইসরায়েল ইউরোপে এমন নতুন বন্ধু খুঁজছে যারা ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইউরোপের ঐক্যকে দুর্বল করতে পারে। গাজা, লেবানন ও ইরান ইস্যুতে বিশ্ববাসী ইসরায়েলের ওপর ক্ষুব্ধ। তাই তারা বিশ্বকে দেখাতে চায় যে তারা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন নয়।"
সোমালিল্যান্ডের স্বীকৃতি
গত বছরের বড়দিনের সময় ইসরায়েল বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিয়ার বিচ্ছিন্ন অঞ্চল সোমালিল্যান্ডকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। এই পদক্ষেপ ইসরায়েলের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে মিত্র হিসেবে গ্রহণের কৌশলেরই অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



