‘সমাজ থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন, জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও মিডিয়াকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই সমস্যা মোকাবিলায় সাহসিকতা, আন্তরিকতা ও দেশপ্রেমের দরকার রয়েছে। দেশের তরুণ–যুবকসহ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে হবে।’
আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে লালমনিরহাটে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে এ কথা বলেন হাতীবান্ধা সামাজিক আন্দোলন পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক শওকত হোসেন আহমেদ। লালমনিরহাট বন্ধুসভার সহযোগিতায় ২৬ জুন বিকেলে শহরের রেলওয়ে শহীদ মিনারসংলগ্ন সড়কে এই কর্মসূচির আয়োজন করে প্রথম আলো ট্রাস্ট।
মাদকাসক্তির ভয়াবহতা
লালমনিরহাট সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ফোরামের আহ্বায়ক দীপক মন্ডল (৫৯) বলেন, ‘মাদকের সমস্যা প্রকট হয়েছে লালমনিরহাটে। আমার পরিচিত একজন মা তাঁর মাদকাসক্ত সন্তানের বিচার চেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারককে বলেছিলেন, “সাত দিন, দশদিন জেল দিয়ে লাভ নাই; আমার সন্তানকে এক বছরের জেল দেওয়া হোক”।’
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক গোকুল চন্দ্র রায় বলেন, ‘সন্তান কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে খোঁজখবর রাখতে হবে। পরিবারের কেউ যদি মাদকাসক্ত হয়ে যায়, তাহলে সেই পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’
মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি
কবি হেলাল হোসেন কবির বলেন, ‘শুধু মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণই যথেষ্ট নয়, বরং মাদক ব্যবসার গডফাদারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। বিজিবি যদি সীমান্তে সাহসিকতার সঙ্গে বিএসএফের পুশ ইন চেষ্টা প্রতিহত করতে পারে, তাহলে সীমান্ত দিয়ে আসা মাদক আটকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সফল হতে পারে না কেন? মাদক তো সীমান্ত পার হয়েই আসে।’
সাংস্কৃতিক কর্মী অলোক অধিকারী বলেন, ‘আমি মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলি। আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা জগদীশ অধিকারীও বলতেন, যত দিন বেঁচে ছিলেন। এলাকার চিহ্নিত মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীরা আমার ওপর হামলা করে, বাড়িতে গাছের ফলমূল কিছু রক্ষা করতে পারি না, সব চুরি হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে তাদের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করা হয়।’
সাহসের পথপ্রদর্শক
সাংস্কৃতিক সংগঠক রক্তিম মিলন বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে লেখা, কথা বলা, প্রতিবাদ করা সত্যি সাহসের কাজ। কারণ, তারা পরস্পর ঐক্যবদ্ধ। পেশিশক্তির ধারক ও বাহক। তবু তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। প্রথম আলোর আজকের এ মানববন্ধন সেই সাহসের পথপ্রদর্শক হতে পারে।’
অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্ট মো. জাবেদ আলী বলেন, ‘দেশের জনসংখ্যা ও মাদকাসক্তির আনুপাতিক হারে প্রতিটি বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে আধুনিক, সুসজ্জিত এবং মানবিক পরিবেশসমৃদ্ধ মানসিক স্বাস্থ্য ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে।’
সাপ্তাহিক আলোর মনির সম্পাদক মাসুদ রানা রাশেদ বলেন, ‘সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে মানুষ মাদক সমস্যার প্রতিকূলতায় কষ্টে আছে। মাদক ব্যবসায়ী গডফাদারদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী গডফাদারদের সামাজিকভাবে বর্জন ও ঘৃণা করতে হবে। মাদকসেবীদের চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং করে সমাজের মূল স্রোতোধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে।’
লালমনিরহাট বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক সাব্বির ইসলামের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর প্রতিনিধি আবদুর রব সুজন। আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট নাট্য সংগঠক সুপেন্দ্র নাথ দত্ত।
মানববন্ধনে লালমনিরহাট বন্ধুসভার সদস্য, প্রথম আলো ট্রাস্টের শিক্ষাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী বর্ষা রানী ও হাফিজা আক্তারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট নদী ভাঙ্গা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হান্নান, লালমনিরহাট রতনাই থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ প্রমুখ।



