সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম দফার দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) শেষ হওয়া এই উচ্চপর্যায়ের সংলাপে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত অগ্রগতি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা।
উত্তেজনাপূর্ণ শুরু, সফল সমাপ্তি
এবারের শীর্ষ বৈঠকের শুরুটা চরম বৈরী ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে হয়েছিল। আলোচনার শুরুর দিকেই তেহরানের পক্ষ থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান নৌপথ হরমুজ প্রণালি আবারও সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার আকস্মিক ঘোষণা আসে। এর জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর কড়া হুঁশিয়ারি দিলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র যুদ্ধ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।
তবে সমস্ত উত্তেজনা কাটিয়ে মধ্যস্থতাকারী দুই দেশ কাতার ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। ওই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী ও চূড়ান্ত শান্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে একটি বিশেষ ‘রোডম্যাপ’ তৈরি করতে পারস্পরিকভাবে সম্মত হয়েছে।
কারিগরি আলোচনা ও যুদ্ধবিরতি
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ওই দাপ্তরিক বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে যে সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে চলতি সপ্তাহজুড়ে দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে কারিগরি বা টেকনিক্যাল পর্যায়ের আলোচনাটি নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে। যৌথ বিবৃতিতে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে উভয় পক্ষই লেবানন সীমান্তে চলমান সামরিক সংঘাত ও রক্তক্ষয়ী লড়াই পুরোপুরি বন্ধ করার বিষয়ে একমত হয়েছে।
এর পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্যের স্বার্থে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত চলাচল নিশ্চিত করতে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে একটি স্থায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা বা হটলাইন চালু করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
পূর্ববর্তী সমঝোতা ও ইরানের প্রতিশ্রুতি
এর আগে গত বুধবার দুই দেশের মধ্যকার সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গত রোববার সুইজারল্যান্ডে ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি সংলাপে বসেন এবং সোমবারের ভোররাতে এই দীর্ঘ আলোচনাটি শেষ হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন যে তেহরান এই আলোচনার মাধ্যমে তাদের তেল ও পেট্রোরাসায়নিক বা পেট্রোকেমিক্যালের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক ব্যাংকে ফ্রিজ থাকা ইরানি অর্থ অবমুক্ত করা এবং দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি সচল করতে একটি বড় ধরনের পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা শুরু করার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি আদায় করতে পেরেছে।
হোয়াইট হাউসের নীরবতা
তবে এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আপাতত পুরোপুরি শেষ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। সূত্র: রয়টার্স



