ভারতে গত ৪৫ দিনে অন্তত ২৩টি মসজিদ ও মাদ্রাসা উচ্ছেদ করা হয়েছে, যা দেশটিতে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এসব উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে 'অবৈধ স্থাপনা' অপসারণের অংশ হিসেবে। তবে সমালোচকরা বলছেন, এটি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে একটি পরিকল্পিত অভিযান।
উচ্ছেদের তালিকা ও এলাকা
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উচ্ছেদকৃত স্থাপনার মধ্যে রয়েছে দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানের বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসা। এর মধ্যে কয়েকটি স্থাপনা কয়েক দশক পুরনো বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। প্রশাসন অবশ্য বলছে, এসব জমি সরকারি বা বন্দোবস্তি সম্পত্তি, যা অবৈধভাবে দখল করা হয়েছিল।
প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক
মুসলিম সংগঠনগুলো এসব উচ্ছেদের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। অল ইন্ডিয়া ইমাম কাউন্সিলের সেক্রেটারি ইমাম উমর আহমেদ ইলিয়াসি বলেন, 'এটি সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত আক্রমণ। সরকার যদি আইনত বৈধ পদ্ধতি অনুসরণ করে, তাহলে আমাদের আপত্তি নেই, কিন্তু এখানে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে শুধু মুসলিম সম্প্রদায়কে।'
অন্যদিকে, সরকারি সূত্র বলছে, 'আইন লঙ্ঘনকারী যে কাউকে উচ্ছেদ করা হবে, ধর্ম নির্বিশেষে।' তবে এই ব্যাখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই উচ্ছেদ অভিযান ভারতের ধর্মীয় সহনশীলতার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরাও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এদিকে, সুপ্রিম কোর্টে কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে উচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।



