বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় জনমিতিক পরিবর্তন খতিয়ে দেখবে ভারত
বাংলাদেশ সীমান্তে জনমিতিক পরিবর্তন খতিয়ে দেখবে ভারত

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন জেলাসহ বিভিন্ন কৌশলগত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে সৃষ্ট জনমিতিক পরিবর্তন খতিয়ে দেখতে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটিকে সব ধরনের প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। শনিবার (১৩ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

কমিটি গঠনের পটভূমি

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষণার প্রায় এক বছর পর, গত ২৬ মে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশেষ উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয় এবং গত ২ জুন কমিটি তাদের প্রথম বৈঠক সম্পন্ন করে। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকারের নেতৃত্বে এই প্যানেলটি মূলত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলা, বিভিন্ন মহানগর ও শিল্পাঞ্চল পরিদর্শন করবে। ভারতের সীমান্ত এলাকায় জনসংখ্যার ভারসাম্যে কী ধরনের পরিবর্তন আসছে এবং এর পেছনে অবৈধ অনুপ্রবেশের ভূমিকা কতটুকু, তা সরজমিনে খতিয়ে দেখাই এই প্যানেলের মূল কাজ।

বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা

শনিবারের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর প্রধান তপন কুমার ডেকা এবং ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও সেন্সাস কমিশনার মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কমিটির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং এর কর্মপরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভোটার তালিকা ও নাগরিকত্ব ইস্যু

এর আগে গত ২ জুন অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে ভারতের ১৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিচালিত বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমের পর ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার বিষয়টিও তারা খতিয়ে দেখবেন। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং নাগরিকত্ব ইস্যু নিয়ে যে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে, কমিটির এই পদক্ষেপের সাথে তার সরাসরি সংযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে এই প্যানেল সরকারের বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র তলব করেছে।

কমিটির কার্যপরিধি

কমিটির কার্যপরিধি বা টার্মস অব রেফারেন্স অনুযায়ী, তাদের মূল কাজ হলো অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণে ভারতের সীমান্ত অঞ্চলে ঘটে যাওয়া জনমিতিক পরিবর্তনগুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখা এবং ‘জনসংখ্যা স্থিতিশীল’ করার জন্য উপযুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার সুপারিশ করা।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই কমিটি ভারতে বসবাসকারী কথিত অবৈধ অভিবাসীদের আইনানুগ, সুষ্ঠু ও সময়োপযোগী উপায়ে শনাক্তকরণ, আটক এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য একটি সুসংগঠিত ও স্থায়ী পরিচালন ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও কেন্দ্রীয় সরকারকে চূড়ান্ত সুপারিশমালা পেশ করবে, যা পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের ওপর পুশব্যাকের মতো ভূরাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।

কমিটির সদস্যবৃন্দ

বিচারপতি নাওলেকার ছাড়াও এই উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের সাবেক প্রধান সচিব ও অবসরপ্রাপ্ত আইএএস কর্মকর্তা দুর্গা শঙ্কর মিশ্র, ব্যুরো অব পুলিশ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সাবেক মহাপরিচালক ও অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস কর্মকর্তা বালাজি শ্রীবাস্তব এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শমিকা রবি। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ সচিব (বিদেশী-১) এই কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সূত্র: দ্য হিন্দু।