মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট সমাজসেবক বিল গেটস মার্কিন কংগ্রেসের একটি কমিটির কাছে স্বীকার করেছেন যে, বিতর্কিত ও কলঙ্কিত অর্থদাতা জেফরি এপস্টেইন তার ব্যক্তিগত জীবনের গোপন তথ্য ব্যবহার করে তাকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সম্প্রতি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ‘হাউস ওভারসাইট কমিটি’র রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দেওয়া সাক্ষ্যে গেটস তিন নারীর সঙ্গে তার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথাও স্বীকার করেন। তিনি জানান, এর মধ্যে দুটি সম্পর্কের কথা এপস্টেইন জানতেন।
গেটসের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক
কমিটির সামনে গেটস জানান, দুই রুশ নারী—ব্রিজ খেলোয়াড় মিলা আন্তোনোভা এবং পারমাণবিক বিজ্ঞানী কারিমা নিগমাতুলিনার সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি এপস্টেইন জানতেন। এছাড়া চিকিৎসা খাতের উদ্যোক্তা অ্যালিস জ্যাকবস নেসেলরডটের সঙ্গে তার তৃতীয় আরেকটি সম্পর্ক ছিল বলেও তিনি স্বীকার করেন।
এপস্টেইনের চাপ ও ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা
এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক এবং তার অতীত সহযোগীদের নিয়ে তদন্তের অংশ হিসেবে নতুন কিছু নথি প্রকাশের পর গেটসকে এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গেটস জানান, এই সম্পর্কগুলোর সঙ্গে এপস্টেইনের কোনো সংযোগ ছিল না, তবে এর ফলে তার পরিবারকে অনেক কষ্ট পেতে হয়েছে। কংগ্রেসের হাতে আসা ট্রান্সক্রিপ্ট অনুযায়ী গেটস বলেন, ‘আমার এই সম্পর্কের সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগের কোনো সম্পর্ক ছিল না। তবে এটি আমার পরিবারের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছিল। এপস্টেইন আমার এই ভুলের তথ্য এবং এর সঙ্গে আরও অনেক মিথ্যা যোগ করে আমাকে তার সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হতে বাধ্য করার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন।’
আইনপ্রণেতাদের গেটস জানান, এপস্টেইন সরাসরি তাকে কখনো ব্ল্যাকমেইল বা অর্থ দাবি করেননি। তবে ২০১৩ সালের একটি ইমেইলের খসড়া দেখে তার মনে হয়েছে যে, এপস্টেইন ব্ল্যাকমেইলের কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছিলেন। সেই খসড়া ইমেইলে গেটসের ব্যক্তিগত জীবন এবং তার সাবেক কর্মচারী বরিস নিকোলিকের প্রসঙ্গ ছিল। গেটস বলেন, ‘তিনি (এপস্টেইন) এটি ড. নিকোলিককে পাঠিয়েছিলেন কিনা তা জানা যায়নি। তবে দেখে মনে হচ্ছে, তিনি কোনো নির্দিষ্ট স্বার্থ হাসিলের জন্য সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ ঘটিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করার একটি চেষ্টা চালাচ্ছিলেন।’
গেটসের অস্বীকৃতি ও আক্ষেপ
পাশাপাশি এপস্টেইনের কোনো অপরাধের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন গেটস। একই সঙ্গে এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখাটা তার ‘মস্ত বড় ভুল’ ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গেটস জানান, মূলত দাতব্য কাজ এবং নতুন দাতা খোঁজার আলোচনার জন্যই তারা দেখাসাক্ষাৎ করতেন।
তদন্তে উঠে আসা কিছু নথিতে এও দাবি করা হয়েছিল যে, গেটস একটি সম্পর্কের পর যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়া নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। আইনপ্রণেতারা এই বিষয়ে জানতে চাইলে গেটস তা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেন। গেটস বলেন, ‘আমার কখনোই কোনো যৌনবাহিত রোগ ছিল না। আমি হয়তো কোনো এক সময়ে এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে থাকতে পারি, যা আমার এখন মনে নেই। তবে আমি কাউকে গোপনে কোনো ওষুধ সরবরাহ করিনি।’
এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগের বিবরণ
গেটস জানান, চার বছরে এপস্টেইনের সঙ্গে তার ১২ থেকে ১৪ বার সরাসরি দেখা এবং দুবার ভিডিও কলে কথা হয়েছিল। এপস্টেইন বারবার বড় বড় দাতব্য সংস্থাকে অনুদান পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও, বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি।
ফাউন্ডেশনের পর্যালোচনার ঘোষণা
এই ঘটনার পর ‘বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন’ এক ঘোষণায় জানিয়েছে, অতীতে এপস্টেইনের সঙ্গে তাদের কর্মকর্তাদের কী ধরনের যোগাযোগ ছিল, তা খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ পর্যালোচনা করা হবে।
সূত্র: এনডিটিভি



