রাজবাড়ীতে কাফনের কাপড় ও বেনামি চিঠি পাঠিয়ে প্রাণনাশের হুমকি
রাজবাড়ীতে কাফনের কাপড় ও চিঠি দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে গভীর রাতে রঞ্জু মিস্ত্রি নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে কাফনের কাপড় ও বেনামি চিঠি পাঠিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই পরিবারসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

বুধবার রাতে উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের স্বরূপার চক এলাকার বাসিন্দা রঞ্জু মিস্ত্রির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাফনের কাপড়, একটি বেনামি চিঠি ও একটি খিলিপান উদ্ধার করেছে। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগীর বক্তব্য

ভুক্তভোগী রঞ্জু মিস্ত্রি জানান, প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতে তারা বাড়ির সবাই খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা তার বাড়ির বারান্দায় একটি সাদা কাফনের কাপড় এবং একটি খোলা চিঠি রেখে যায়। সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় কাফনের কাপড় এবং ওই চিঠিটি দেখতে পান। তিনি বলেন, “ঘটনার পর হতে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা চরম দুশ্চিন্তায় সময় পার করছি।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হুমকিপূর্ণ চিঠির বিষয়বস্তু

বেনামি ওই চিঠির শিরোনামে লেখা হয়েছে- ‘বাঁচার দিন শেষ, ভাই-ভাবির রেশ।’ ভেতরে লেখা হয়েছে- ‘অতি দুঃখের সহিত জানাচ্ছি যে, ভাই-ভাবি তোমরা তোমাদের মনের মতো খাবার খেয়ে নাও। ভাই-ভাবি তোমাদের যেকোনো সময় ডাক পড়তে পারে। তাই তোমাদের মনের যত ইচ্ছে আছে সব পূরণ করে নাও। তোমাদের সব কুকীর্তি ফাঁস হয়েছে। তাই তোমাদের এ দেশ ছেড়ে যেতে হবে। ভাই-ভাবি এবং তোমাদের ছেলে সন্তানকে অতি দুঃখ-কষ্টে দিন পার করতে হবে। আমাদের জমিগুলো ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য বলা হলো এবং সীমানা ঠিক রাখার জন্য বলা হলো। অতএব ভাই-ভাবি এবং তোমার ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করা হবে। সময় এক বছর। ভাবি তুমি অনেক খারাপ লোক। ভালো হতে কোনো টাকা-পয়সা লাগে না। তুমি গ্রামের -- এবং কিট।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে কাফনের কাপড় রেখে যাওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং চরম হুমকির বিষয়। তারা বলেন, “আমরা এখন রাতে ঘুমাতেও ভয় পাচ্ছি। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং এলাকায় পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করার জোর দাবি জানাচ্ছি।”

পুলিশের পদক্ষেপ

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনা শোনার পর তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে তারা কাজ করছেন। এ বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।”