বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাপানের অফিশিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স (ওএসএ)-এর অধীনে পাঁচটি টহল নৌকা পেয়েছে। শুক্রবার জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। এটি বাংলাদেশের জন্য প্রথম ওএসএ প্রকল্প, যা জাপান সরকারের ওএসএ এফওয়াই২০২৩ প্রকল্প হিসেবে নির্ধারিত হয়েছিল।
টহল নৌকার উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব
এই সহায়তার মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নজরদারি, পর্যবেক্ষণ ও দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সহায়তা শুধু বঙ্গোপসাগর নয়, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলেও সামুদ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে ও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।
জাপানের মতে, বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত যা জাপানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের ওপর অবস্থিত এবং এটি জাপানের কৌশলগত অংশীদার।
হস্তান্তর অনুষ্ঠান
চট্টগ্রামের বিএনএস নির্বিক-এ ২ জুলাই হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন জাপানের সংসদীয় উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিমাদা তোমোয়াকি, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামছুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পক্ষ ওএসএ-র মাধ্যমে সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং ওএসএ প্রকল্পের মাধ্যমে জাপানের সঙ্গে ‘নিরাপত্তা সহযোগিতা গভীর করার’ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে। এছাড়া তারা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় জাপানের অবদানের প্রশংসা করে।
উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিমাদা আশা প্রকাশ করেন যে এই সহায়তা জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।
ওএসএ কী?
অফিশিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স (ওএসএ) হলো একটি অনুদান সহায়তা কাঠামো যা প্রাপ্ত দেশগুলোর সশস্ত্র বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সরঞ্জাম ও সরবরাহ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা প্রদান করে।
ওএসএ-র লক্ষ্য হলো প্রাপ্ত দেশগুলোর নিরাপত্তা ও প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়িয়ে তাদের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা, জাপানের জন্য অনুকূল নিরাপত্তা পরিবেশ তৈরি করা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা ও শক্তিশালী করতে অবদান রাখা।



