ভারতে অপেক্ষায় রেখে অপমান, ফেরত আসার সিদ্ধান্ত আমার: উপদেষ্টা জাহেদ
ভারতে অপেক্ষায় রেখে অপমান, ফেরত আসার সিদ্ধান্ত আমার: জাহেদ

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, "আমি ভারতে একজন ব্যক্তি হিসেবে যাইনি। গিয়েছি সরকারের একজন প্রতিনিধি হিসেবে, রাষ্ট্রের একজন প্রতিনিধি হিসেবে। একটা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আমার কাছে মনে হয়েছে যে, আমাদের ‘ইন্সট্যান্ট’ একটা প্রতিবাদ করা দরকার। সে কারণেই আমি ব্যাক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের কর্মকাণ্ড জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। একটি সম্মেলনে যোগ দিতে গত রবিবার দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। কিন্তু দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষায় রাখা হয়। শুরুতে তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে শ্রীলঙ্কার কলম্বো হয়ে সোমবার ঢাকায় পৌঁছান। পরে এ ঘটনায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে ডেকে প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা।

ঘটনার ব্যাখ্যা

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান দিল্লির ঘটনার ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশ ও ভারতের মিডিয়াতে যা যা এসেছে, ঘটনাগুলো এরকমই ঘটেছে। আমার সঙ্গে যা হয়েছে, আমার কাছে মনে হলো যে, আমাদের ইন্সট্যান্ট একটা প্রতিবাদ করা দরকার। সে কারণেই আমি ব্যাক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।' দিল্লি থেকে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত তার একার ছিল, নাকি সরকারের ছিল—এই প্রশ্নে তিনি বলেন, 'প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত আমার ছিল। কারণ পরিস্থিতি আমি দেখেছি। পরে আলোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি জানান, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ একটা পর্যায়ে খুবই চেষ্টা করেছে যেন তিনি ভারতে প্রবেশ করেন এবং নিয়মিত কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। তিনি বলেন, 'কিন্তু আমি আর সেটা করিনি। নিজেকে আমি ব্যক্তি হিসেবে মনে করেছি, তা না। এই সরকারের, প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা হিসেবে আমি মনে করেছি। তখন মনে হয়েছে, রাষ্ট্র বা সরকারের পক্ষ থেকে একটা সিগনেচার থাকা দরকার। কারণ ব্যক্তিগতভাবে আমার কখনো এই উদ্দেশ্য নেই যে, এটার মাধ্যমে পালটাপালটিভাবে কোনো নেগেটিভ পরিস্থিতি তৈরি হোক। আমার মনে হয়েছে, একটা মেসেজ এই দেশ ও এই দেশের বাইরে যাওয়া দরকার। সেটা হলো, এটা শেখ হাসিনা সরকার না। এটা জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার।'

ভবিষ্যৎ সম্পর্ক

তবে তিনি প্রত্যাশা করেন, এ ঘটনার প্রভাব দুই দেশের ভবিষ্যত্ এনগেজের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে না। জাহেদ উর রহমান বলেন, 'ভারত নয় শুধু, ভবিষ্যতে অন্য যে কোনো দেশের সঙ্গে এঙ্গেজমেন্টে আমাদের একটা সুস্পষ্ট নীতি আছে। কোনোভাবেই আমরা চাই না, কোনো দেশের সঙ্গে খারাপ কোনো পরিস্থিতি হোক, শত্রুতা তো দূরেই থাকুক। সবার আগে বাংলাদেশ, আমরা বাংলাদেশকে আগে রাখব, তার মাধ্যমে প্রত্যেকটা দেশের সঙ্গে আমাদের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে এঙ্গেজমেন্ট হবে। সেটা কোনোভাবেই রাষ্ট্রের আত্মমর্যাদা, আত্মসম্মান বিকিয়ে দিয়ে বা আমার ক্ষতি করে কাউকে কোনো সুবিধা দেওয়া, এই নীতিতে কোনো দেশের সঙ্গেই এই সরকার যাবে না। বিষয়টি ইতিমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চলে গেছে এবং তারা যা যা করণীয়, তা করছে' বলেও তিনি জানান।

প্রতিবেশী হিসেবে ভারত

উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, 'বন্ধু পালটানো যায়, প্রতিবেশী পালটানো যায় না। এই কথাটা ভারতের ক্ষেত্রেও সত্য। তারা চাইলেই আমাদেরকে পালটাতে পারছেন না। আমরা তার প্রতিবেশী হিসেবে থেকেই যাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি, তাদের সরকার এটা বুঝবেন যে, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।'

পাসপোর্ট প্রসঙ্গ

কূটনৈতিক পাসপোর্ট না নিয়ে ব্যক্তিগত পাসপোর্টে দিল্লি কেন গিয়েছিলেন, সেটারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন ড. জাহেদ। তিনি বলেন, 'কূটনৈতিক পাসপোর্ট আমি নিইনি। অন্য কোনো কারণে না। এই নিচ্ছি, নেব নেব করতে করতে দেরি হয়েছে। তবে কূটনৈতিক পাসপোর্ট কোনো কারণ না। কারণ আমার পাসপোর্টে সার্ক স্টিকার দেওয়া রয়েছে। তার মানে কূটনৈতিক পাসপোর্ট যেভাবে কাজ করে, এটা সেভাবেই ইফেক্টিভ হওয়ার কথা। আমি কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিতে বাধ্যও না। আমি নিতে পারি চাইলে। এখানে অন্য কারণ ছিল, যা ইন্ডিয়ান মিডিয়াতেও কম-বেশি এসেছে।'