রাশিয়া যুক্তরাজ্যের কূটনীতিককে বহিষ্কার, অর্থনৈতিক গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় যুক্তরাজ্যের দূতাবাস থেকে রাষ্ট্রদূতের গাড়ি বের হওয়ার দৃশ্য ২০২৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ক্যামেরাবন্দী হয়েছে। এই ঘটনার পটভূমিতে রাশিয়া যুক্তরাজ্যের একজন কূটনীতিককে অর্থনৈতিক গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে। রুশ কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এফএসবি) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, ওই কূটনীতিক এমন সব গোয়েন্দা তৎপরতা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন, যা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মস্কোর কঠোর পদক্ষেপ ও সতর্কতা
মস্কোয় অবস্থিত যুক্তরাজ্য দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি আলবার্তাস গেরহার্ডাস জেনস ভ্যান রেনসবার্গের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি রাশিয়ার নাগরিকদের ওই দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের যোগাযোগ না করার জন্য সতর্ক করে দিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। এই পদক্ষেপকে রাশিয়া তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি জরুরি উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিক্রিয়া ও অভিযোগ প্রত্যাখ্যান
যুক্তরাজ্য রাশিয়ার এই পদক্ষেপকে 'ভীতি প্রদর্শন' বলে উল্লেখ করেছে এবং এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র অভিযোগকে 'সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য' এবং 'ভিত্তিহীন' বলে দাবি করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই ঘটনা দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে উত্তেজনা
চলমান ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে মস্কো অভিযোগ করেছে যে, রাশিয়ার অভ্যন্তরে বিবাদ সৃষ্টির জন্য স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের মতো করে গুপ্তচরবৃত্তি চালাচ্ছে যুক্তরাজ্য। অন্যদিকে, ইউক্রেনকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করা যুক্তরাজ্য মনে করে যে, রাশিয়া তাদের সামনে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে। পশ্চিমা বিশ্বে সাইবার হামলা, হত্যাকাণ্ড ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য রুশ গোয়েন্দাদের দায়ী করে আসছে লন্ডন কর্তৃপক্ষ।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, ইউক্রেন সংকটের প্রেক্ষিতে এই ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে, যা বৈশ্বিক রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে।



