মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে শাহবাজ-পেজেশকিয়ানের দীর্ঘ ফোনালাপ, ইসলামাবাদে সম্মেলন শুরু
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ফোনালাপ করেছেন। এ সময় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধ ও উত্তেজনা প্রশমনের উপায় নিয়ে তাদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ফোনালাপের মূল বিষয়বস্তু
শাহবাজ শরিফ জানান, তিনি ইরানি প্রেসিডেন্টকে পাকিস্তানের চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিষয়ে অবহিত করেছেন। পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে ‘সংলাপ ও উত্তেজনা প্রশমন সহজতর করার’ উদ্যোগ নিচ্ছে। তিনি ইরানের ওপর ইসরাইলের অব্যাহত হামলার, বিশেষ করে সম্প্রতি বেসামরিক অবকাঠামোতে চালানো হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
এছাড়া, তিনি ইরানের সাহসী জনগণের প্রতি পাকিস্তানের সংহতি প্রকাশ করেছেন। হামলায় নিহতদের জন্য শোক ও আহত ও বাস্তুচ্যুতদের দ্রুত সুস্থতা ও নিরাপত্তা কামনা করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বজায় রাখা এবং সংলাপের পথ সুগম করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করায় তিনি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
ইসলামাবাদে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সম্মেলন
এ উচ্চপর্যায়ের ফোনালাপ এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যার ঠিক পরের দিনই অর্থাৎ আগামীকাল রোববার থেকে ইসলামাবাদে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। সম্মেলনে তুরস্ক, মিসর, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেবেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ সফরের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও উত্তেজনা প্রশমনের বিভিন্ন উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য এই চার দেশীয় বৈঠকটি টেকসই যুদ্ধবিরতির পথ প্রশস্ত করতে পারে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা
বর্তমানে পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ‘যোগসূত্র’ হিসেবে কাজ করছে। গত কয়েক দিন ধরে পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষভাবে বার্তার আদান-প্রদান চলছে। এ প্রক্রিয়ায় আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের সক্রিয় ভূমিকা লক্ষণীয়।
ফোনালাপ ও সম্মেলনের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন ইসলামাবাদের দিকে। পাকিস্তানের কূটনৈতিক উদ্যোগ কীভাবে যুদ্ধবিরতি ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে, তা নিয়েই বিশ্ববাসী অপেক্ষা করছে।



