জাতিসংঘে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের বক্তব্য: সব ধরনের বর্ণবাদ নির্মূলে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আন্তর্জাতিক বর্ণবাদ বিলোপ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণীয় সভায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সোমবার দেশটির দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি সকল প্রকার বর্ণবাদ ও জাতিগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশের অটল প্রতিশ্রুতির কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।
আন্তর্জাতিক কনভেনশনে বাংলাদেশের সই
পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তৃতায় জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ বর্ণবাদ ও জাতিগত বৈষম্য সংক্রান্ত সকল প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে চলেছে। তিনি বৈশ্বিক পর্যায়ে বর্ণবাদ নির্মূল, সমতা প্রতিষ্ঠা এবং মানব মর্যাদা রক্ষায় আরও জোরদার প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।
রাখাইন ও গাজায় চলমান সংকটের উল্লেখ
ড. খলিলুর রহমান তার ভাষণে চলমান জাতিগত অবিচারের দুটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে রাখাইন ও গাজা সংকটের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ডারবান ঘোষণাপত্র ও কর্মপরিকল্পনার লক্ষ্য অর্জনে বৈশ্বিক সম্প্রদায় এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তার মতে, এই সংকটগুলো সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
অভিবাসী শ্রমিকদের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সতর্কতা
নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বব্যাপী অভিবাসী শ্রমিকদের মুখোমুখি হওয়া বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে বহিষ্কার, শোষণ এবং ন্যায়বিচারে সীমিত প্রবেশ এই শ্রমিকদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। ড. রহমানের মতে, এই সমস্যাগুলো জাতিসংঘের মূল্যবোধকেই ক্ষুণ্ণ করছে।
বাংলাদেশের সাংবিধানিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
বাংলাদেশের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত সমতা ও মানবাধিকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং শক্তিশালী মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি বর্ণবাদমুক্ত বিশ্ব গঠনের জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলোর ওপর জোর দেন:
- শিক্ষা খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ
- ঘৃণামূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ
- আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপ বৃদ্ধি
ড. খলিলুর রহমানের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মানবাধিকার ও সমতা বিষয়ক অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তার এই আহ্বান বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে আসছে।



