স্পেন-ইসরায়েল কূটনৈতিক সংঘাত চরমে, রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা
স্পেন সোমবার ইসরায়েল থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করেছে, যা দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক সংঘাতকে আরও তীব্র করেছে। এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সারের স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায়।
সানচেজের ঘোষিত কঠোর পদক্ষেপ
স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, এই পদক্ষেপগুলো গাজায় যা তিনি "গণহত্যা" বলে অভিহিত করেছেন, তা বন্ধ করার জন্য নেওয়া হয়েছে। সানচেজের ঘোষণার মধ্যে রয়েছে:
- ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ
- ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর জন্য জ্বালানি বহনকারী জাহাজগুলোর স্প্যানিশ বন্দর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা
সানচেজ ইসরায়েলের সমালোচনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং বলেছেন যে স্পেন শান্তি, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পক্ষে দাঁড়াতে কখনোই ভয় পাবে না।
ইসরায়েলের পাল্টা পদক্ষেপ
ইসরায়েল স্পেনের এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার এক্স প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্টে সানচেজের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন যে সানচেজের এই সমালোচনা আসলে গুরুতর দুর্নীতি কেলেঙ্কারি থেকে মনোযোগ সরানোর একটি প্রচেষ্টা, যা একটি অবিরাম ইসরায়েল-বিরোধী ও ইহুদি-বিরোধী প্রচারণার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
ইসরায়েল স্পেনের দুই বামপন্থী মন্ত্রীর দেশে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। এই নিষেধাজ্ঞার শিকার হয়েছেন:
- উপ-প্রধানমন্ত্রী ইয়োলান্ডা ডিয়াজ
- যুবমন্ত্রী সিরা রেগো
এই দুই মন্ত্রীই দূর-বামপন্থী সুমার গ্রুপের সদস্য, যা সানচেজের জোট সরকারের ছোট শরিক দল। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, সিরা রেগোর বাবার দিক থেকে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এবং তিনি দখলকৃত পশ্চিম তীরে তার শৈশবের কিছু সময় কাটিয়েছেন।
স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া
স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। মাদ্রিদ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে তারা শান্তি, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পক্ষে তাদের অবস্থান থেকে কখনোই পিছপা হবে না এবং ইসরায়েলের এই ধরনের পদক্ষেপে ভয় পাবে না।
এই ঘটনা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকট তৈরি করেছে। স্পেনের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা ও রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের মতো কঠোর পদক্ষেপ এবং ইসরায়েলের পাল্টা প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংঘাত গাজা সংকটের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ইসরায়েল নীতির বিভাজনকেও তুলে ধরছে।
