বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অঙ্গীকার
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দিয়েছেন যে বাংলাদেশ আর কারও কথার অধীনে থাকবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ তার নিজের ইচ্ছায় চলবে এবং এই নীতিই দেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
লন্ডনে ইফতার মাহফিলে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য
সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনের অট্রিয়াম হলে বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির দিকনির্দেশনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদী আমলে পররাষ্ট্রনীতি অন্য একটি দেশের কাছে বন্ধক দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি হলো স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। তারেক রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি পরিষ্কারভাবে জানান, সবার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নই মূল লক্ষ্য।
পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি: স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রনীতিতে বাংলাদেশের কয়েকটি অপরিহার্য নীতি তুলে ধরেন:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা
- ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখা
- দেশের স্বার্থ ও মর্যাদা সংরক্ষণ
তিনি বলেন, এই নীতিগুলো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল। খলিলুর রহমান স্মরণ করেন, সেই সময়ে আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দিয়েছিলাম এবং সেটা ছিল আমাদের পররাষ্ট্রনীতির সোনালি সময়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ আবার সেই জায়গায় ফিরে যাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু
বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই অস্থিরতায় চার বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
লন্ডনে এই ইফতার মাহফিলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও পররাষ্ট্রনীতির দিকনির্দেশনা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ কোনো বিদেশি প্রভাবের অধীনে নয়, বরং নিজস্ব স্বার্থ ও নীতির ভিত্তিতে বিশ্বমঞ্চে চলবে।
