আইসিটিতে মীর আহমাদ বিন কাসেমের জেরা: গুমের অভিযোগ অস্বীকার, আসামিপক্ষের আইনজীবী প্রশ্ন করেন
আইসিটিতে মীর আহমাদ বিন কাসেমের জেরা: গুমের অভিযোগ অস্বীকার

আইসিটিতে মীর আহমাদ বিন কাসেমের জেরা: গুমের অভিযোগ অস্বীকার

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি আত্মগোপনে ছিলেন না এবং কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাঁকে গুম করেনি। রোববার অনুষ্ঠিত এই জেরায় তিনি তাঁর অবস্থান ব্যাখ্যা করেন, যা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম করে রাখার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়।

মামলার পটভূমি ও জেরার প্রক্রিয়া

এই মামলায় বর্তমান ও সাবেক ১২ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জন আসামি রয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ জন ঢাকা সেনানিবাসের সাবজেলে আটক আছেন। রোববার ট্রাইব্যুনালে তাদের হাজির করা হয়। মীর আহমাদ বিন কাসেম এই মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে গত ২১ জানুয়ারি মাসে জবানবন্দি দেন, কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে তিনি এরপর ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হতে পারেননি। ফলে দীর্ঘ সময় পর রোববার তাঁকে প্রথম দিনের মতো জেরা করা হয় এবং আগামী মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের জেরার জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবীর ভূমিকা

আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গনি মীর আহমাদ বিন কাসেমের জেরা পরিচালনা করেন, যেখানে তিনি গুম ও আত্মগোপনের বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করেন। মীর আহমাদ বিন কাসেমের উত্তরগুলো মামলার প্রমাণ সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে, বিশেষ করে যেহেতু এই মামলায় পলাতক সাত আসামি রয়েছেন, যাদের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর তৎকালীন প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, এবং র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদের মতো ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মীর আহমাদ বিন কাসেমের রাজনৈতিক পটভূমি

মীর আহমাদ বিন কাসেম জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর বাবা মীর কাসেম আলী জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন, যিনি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর ইতিহাসে স্থান পেয়েছেন। এই পারিবারিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মামলার জেরায় অতিরিক্ত মাত্রা যোগ করেছে, কারণ এটি মানবাধিকার ও বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

মামলার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ

এই মামলার মাধ্যমে বাংলাদেশের আইনি ব্যবস্থায় গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মোকাবিলা করার দৃঢ়তা প্রদর্শিত হচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম চলমান থাকায়, বিশেষ করে আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরা এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি, মামলার ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। জনগণের মধ্যে এই মামলা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে, কারণ এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার প্রশ্ন উত্থাপন করে।