ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন চূড়ান্ত পর্যায়ে, বিশেষজ্ঞ পরিষদ একমত
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির বিশেষজ্ঞ পরিষদ নতুন নেতা নির্বাচনে একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিষদের সদস্য আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ-মাহদি মিরবাঘেরি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই খবরটি প্রথম প্রকাশ করেছে।
নতুন নেতা নির্বাচনে বাধা ও সমাধান
ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সির বরাতে রবিবার জানা গেছে, মিরবাঘেরি জানিয়েছেন নতুন নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ‘কিছু বাধা’ থাকলেও সেগুলো সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় খামেনির মৃত্যুর পর থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়।
পরিষদের আরেক সদস্য আয়াতুল্লাহ মহসেন হেইদারি আলে কাসির জানিয়েছেন, খামেনির দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী এমন একজনকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যাকে ‘শত্রুরা ঘৃণা করবে’। তিনি ইঙ্গিত দেন যে ওই ব্যক্তির নাম খোদ আমেরিকাও উচ্চারণ করেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও হুমকি
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনির ছেলে মোজতবা হোসাইনি খামেনিকে উত্তরসূরি হিসেবে তার কাছে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
এদিকে ইরানের এই নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে সরাসরি হুমকি দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ফারসি ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েল সতর্ক করে বলেছে, খামেনির উত্তরসূরি নিয়োগের বৈঠকে যারা অংশ নেবেন, তাদের ওপর হামলা চালাতে তারা দ্বিধা করবে না।
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি ও ভোটদান প্রক্রিয়া
বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে বিশেষজ্ঞ পরিষদের ৮৮ জন সদস্যের পক্ষে সশরীরে উপস্থিত হয়ে চূড়ান্ত ভোট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পরিষদের সদস্য হেইদারি আলে কাসির জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে সশরীরে বৈঠক ছাড়াই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণার বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সামান্য মতভেদ রয়েছে।
পরিষদের আরেক সদস্য হোজ্জাতুল ইসলাম জাফারি দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তৃতীয় নেতা নির্বাচনে এই বিলম্ব সবার জন্যই তিক্ত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। এই কঠিন সময়ে প্রতিনিধিদের ওপর আস্থা রাখা জরুরি।
ইরানের সংবিধান ও বিশেষজ্ঞ পরিষদের ভূমিকা
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, এই বিশেষজ্ঞ পরিষদই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের একমাত্র বৈধ কর্তৃপক্ষ। খামেনি টানা ৩৭ বছর ইরান শাসন করার পর সম্প্রতি শুরু হওয়া এই আঞ্চলিক যুদ্ধে প্রাণ হারান।
এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি হলো:
- বিশেষজ্ঞ পরিষদের একমত হওয়া
- আন্তর্জাতিক চাপ ও হুমকি
- যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ভোটদান চ্যালেঞ্জ
- খামেনির পরামর্শ অনুসরণ
এই নির্বাচন ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



