প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টার সঙ্গে জাইকা প্রতিনিধি দলের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ
রোববার, ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর অফিস কক্ষে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে একটি উল্লেখযোগ্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে জাইকার পাঁচ সদস্যের একটি দল অংশগ্রহণ করে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন সহযোগিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
উন্নয়ন অংশীদারিত্বের প্রতি অঙ্গীকার
সাক্ষাতের শুরুতে, উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ জাইকা প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশের বৃহত্তম উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে তাদের অবদানের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, "অতীতের মতো আগামী দিনগুলোতেও জাপান বাংলাদেশের বৃহত্তম উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে।" এই মন্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে জাপানের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
মানবসম্পদ ও কর্মসংস্থান উন্নয়নে জাইকার আগ্রহ
জাইকা প্রতিনিধি দলের প্রধান তোমোহাইড ইচিগুচি বৈঠকে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, জাপান কেবল অবকাঠামো উন্নয়নেই নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন, যা দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতামূলক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দেয়।
প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনা
উপদেষ্টা আরও জানান যে, প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য একটি ক্যারিয়ার প্লানিং প্রকল্প বর্তমানে চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, "কর্মকর্তাদের দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারলে তাদের কর্মদক্ষতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে," যা সরকারি প্রশাসনের দক্ষতা উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের পেশাদার বিকাশে সহায়তা করা হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতা
জাইকা প্রতিনিধি দল বৈঠকে উপদেষ্টাকে বাংলাদেশে চলমান জাইকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। উপদেষ্টা জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বলেন, "আমরা অর্থনৈতিকভাবে টেকসই দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা হওয়ার সব যাত্রায় জাপান সহযোগিতা করবে।" এই মন্তব্যের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হয়।
সর্বোপরি, এই সাক্ষাৎ বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার উন্নয়ন সহযোগিতাকে আরও গভীর ও কার্যকর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা উভয় দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



