ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর বৈঠক: এলওসি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে সন্তুষ্টি
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা আজ রোববার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে একটি সৌজন্য বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ভারতীয় ঋণ বা লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে দুই দেশই সন্তুষ্ট। তবে যেসব বড় প্রকল্প নিয়ে সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ইতিবাচক আলোচনা ও সহযোগিতা জোরদার
প্রণয় ভার্মা জানান, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে আর্থিক খাতের সহযোগিতা জোরদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। তিনি দাবি করেন যে, ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিট কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সন্তোষজনক। বড় প্রকল্পে কিছু প্রাথমিক সমস্যা থাকলেও তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে দুই পক্ষই সন্তুষ্ট।
এলওসি প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য
ভারতের এক্সিম ব্যাংক থেকে এই এলওসির অর্থ পাওয়া যাচ্ছে। এ পর্যন্ত তিনটি লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় ৭৩৬ কোটি ডলার পাওয়ার ঋণচুক্তি রয়েছে, যেখানে অবকাঠামো, বিদ্যুৎ এবং যোগাযোগ খাতের প্রকল্প বেশি নেওয়া হয়েছে।
- প্রথম এলওসি (২০১০): ১০০ কোটি ডলার দেয়া হয়, ১৫টি প্রকল্পের মধ্যে ১২টি শেষ হয়েছে এবং তিনটি চলমান।
- দ্বিতীয় এলওসি: ১৫টি প্রকল্পের মধ্যে দুটি শেষ হয়েছে, ১০টি চলমান এবং তিনটি প্রস্তাবনা পর্যায়ে রয়েছে।
- তৃতীয় এলওসি: ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে আটটি চলমান আছে এবং বাকি পাঁচটি প্রস্তাবনা পর্যায়ে রয়েছে।
আর্থিক খাতের অগ্রাধিকার ও সহযোগিতা
প্রণয় ভার্মা আরও জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের অগ্রাধিকার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে, বিশেষ করে:
- ব্যবসা সহজীকরণ
- কর সংস্কার
- প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা
তিনি ভারতের ডিজিটাল ব্যবস্থায় জনঅবকাঠামোর মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর অভিজ্ঞতা অর্থমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে।
বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীরকরণ
ভারতের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সমুদ্র, স্থল ও আকাশপথে বিদ্যমান যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সহজ করে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ব্যবসা সহজীকরণের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রক্রিয়া আরও সহজ করা গেলে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়বে, যা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিও বাড়াবে।
দুই দেশের অর্থনীতিকে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রণয় ভার্মা। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্দর ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে ভবিষ্যতে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা হবে।
