ইরান বিরোধী যুদ্ধে ভারতীয় বন্দর ব্যবহারের মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ভারতীয় বন্দর ব্যবহারের মার্কিন দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। বুধবার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই স্পষ্টীকরণ দেওয়া হয়, যা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মার্কিন দাবির প্রতিবাদ ও ভারতের অবস্থান
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষা সচিবের উপদেষ্টা ডগলাস ম্যাকগ্রেগর একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দাবি করেছিলেন যে, চলমান সংঘাতের মধ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলো ভারতীয় বন্দর ব্যবহার করতে পারে। এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, 'ভারতীয় বন্দরগুলো মার্কিন নৌবাহিনী ব্যবহার করছে বলে যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বানোয়াট।' বিবৃতিতে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, 'এ ধরনের ভিত্তিহীন মন্তব্যের বিষয়ে আমরা সবাইকে সতর্ক করছি।'
সংঘাতের প্রেক্ষাপট ও ভারতের নিরপেক্ষতা
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালায়, যার জবাবে তেহরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে। এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ভারত কার পক্ষ নেবে, তা নিয়ে নানা মহলে কৌতূহল ছিল।
ভারতের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজে মার্কিন সাবমেরিন হামলার ঘটনাটি ভারত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। উল্লেখ্য, ক্ষতিগ্রস্ত ইরানি জাহাজটি ভারতে আয়োজিত একটি সামরিক মহড়া শেষ করে ফেরার পথে হামলার শিকার হয়। সংঘাতের এই আবহে ভারত নিজের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতেই বন্দর ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এই স্পষ্টীকরণের মাধ্যমে ভারত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা যেকোনো সংঘাতে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মার্কিন দাবির প্রত্যাখ্যান ইরান ও অন্যান্য দেশের সাথে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বকে তুলে ধরে। ভবিষ্যতে এই সংঘাতের প্রভাব ভারতের পররাষ্ট্র নীতিতে কী পরিবর্তন আনতে পারে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
