ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা হবে না, ঘোষণা তেহরানের
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা হবে না

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা হবে না, ঘোষণা তেহরানের

ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে চূড়ান্ত সীমা হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং এই কর্মসূচি নিয়ে কোনও ধরনের আলোচনা বা সমঝোতা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। বুধবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতার একজন উপদেষ্টা আলী শামখানি এই অবস্থান তুলে ধরেছেন, যা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।

আলোচনার প্রস্তুতির মধ্যেই ঘোষণা

এমন এক সময়ে এই ঘোষণা এসেছে, যখন সংঘাত এড়াতে নতুন দফায় আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। গত সপ্তাহে ওমানে দুই দেশের কূটনীতিকরা পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে উভয় পক্ষ সম্ভাব্য সমঝোতার পথ খুঁজছে।

ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক মিছিলে অংশ নিয়ে আলী শামখানি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে কোনও আলোচনা হতে পারে না। এর আগে গত রবিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও একই সুরে কথা বলেছিলেন, তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কখনোই আলোচনার এজেন্ডায় ছিল না।

ওয়াশিংটনের দাবি ও ইরানের অবস্থান

ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে আলোচনার পরিধি বাড়িয়ে তাতে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আনতে রাজি থাকলেও তার বিনিময়ে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্ত দিয়েছে। তবে পারমাণবিক ইস্যুর সঙ্গে অন্য কোনও বিষয়, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে যুক্ত করতে বারবার অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে দেশটি।

নেতানিয়াহুর চাপ ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বুধবার ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যেকোনও চুক্তিতে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে ট্রাম্পকে চাপ দেবেন তিনি। এই বৈঠকটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষিতে।

ইরানের এই ঘোষণা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা ভবিষ্যত আলোচনাগুলোকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তেহরানের অনড় অবস্থান পারমাণবিক চুক্তি পুনরুজ্জীবনের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, যেখানে ওয়াশিংটন ও তার মিত্ররা ইরানের সামরিক প্রসার নিয়ন্ত্রণে আগ্রহী।