রাহুল গান্ধীর তীব্র অভিযোগ: মোদি সরকার 'ভারত মাতাকে' বিক্রি করেছে
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) কেন্দ্রীয় বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তিকে 'একতরফা' বলে অভিহিত করে অভিযোগ করেন, এই চুক্তির মাধ্যমে সরকার 'ভারত মাতাকে বিক্রি' করে দিয়েছে।
চুক্তিকে 'পাইকারি আত্মসমর্পণ' বলে বর্ণনা
রাহুল গান্ধী এই চুক্তিকে ভারতের স্বার্থে একটি 'পাইকারি আত্মসমর্পণ' হিসেবে বর্ণনা করেন এবং দাবি করেন যে এর ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'ভারত মাতাকে বিক্রি করতে সরকারের লজ্জা করছে না কেন?' এবং অভিযোগ করেন, এই চুক্তির ফলে ভারত কার কাছ থেকে তেল কিনবে তা এখন আমেরিকা নির্ধারণ করবে।
কৃষক ও বস্ত্রশিল্পের জন্য ভয়াবহ পরিণতির সতর্কতা
কৃষকদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সতর্ক করে দেন যে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি পণ্যে ভারতীয় বাজার ছেয়ে যাবে, যা দেশীয় কৃষকদের জন্য এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। এর পাশাপাশি ভারতীয় বস্ত্রশিল্প এই চুক্তির ফলে ধ্বংস হয়ে গেছে বলেও তিনি দাবি করেন। রাহুল গান্ধী জোর দিয়ে বলেন, কৃষকদের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে এবং এই চুক্তি দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
'যুদ্ধের যুগ শেষ' মন্তব্যের পাল্টা জবাব
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের 'যুদ্ধের যুগ শেষ' সংক্রান্ত পুরনো মন্তব্যের রেশ ধরে রাহুল গান্ধী বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং বিশ্ব এখন যুদ্ধের যুগের দিকেই ধাবিত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই সংকটময় সময়ে দেশের মানুষ, তথ্য সুরক্ষা, খাদ্য সরবরাহ এবং জ্বালানি ব্যবস্থাকে রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইন্ডিয়া জোটের বিকল্প নীতির দাবি
রাহুল গান্ধী জোর দিয়ে বলেন, ইন্ডিয়া জোটের সরকার ক্ষমতায় থাকলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সাথে সমমর্যাদার ভিত্তিতে কথা বলত এবং ভারতকে একটি সমান অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার দাবি জানাত। তিনি সরকারের বাণিজ্য নীতিকে 'দেশদ্রোহী' আখ্যা দিয়ে এই চুক্তি বাতিলের আহ্বান জানান।
সূত্র: দ্য হিন্দু। এই বক্তব্যে রাহুল গান্ধী ভারতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যা দেশের বিরোধী দলের তীব্র প্রতিবাদের প্রতিফলন।
