ইরান কূটনৈতিক সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, নতুন সংঘাতের জন্যও প্রস্তুত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, দেশটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি কূটনৈতিক মীমাংসার জন্য সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একইসঙ্গে, নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কার জন্যও ইরান প্রস্তুত বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। রাশিয়া টুডে (আরটি) চ্যানেলকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে আরাঘচি এই বক্তব্য দেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) আরটি তাদের প্রতিবেদনে এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কূটনৈতিক সমাধানের উপর জোর
আব্বাস আরাঘচি যুক্তি দেখিয়ে বলেন, 'কূটনৈতিক সমাধান ছাড়া কোনো সমাধান হবে না।' তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, প্রযুক্তি এবং অগ্রগতি বোমা হামলা বা সামরিক হুমকির মাধ্যমে ধ্বংস করা যাবে না, যা ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের অবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। 'আমাদের এখনও যুক্তরাষ্ট্রের উপর পূর্ণ আস্থা নেই,' বলেও মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জোর দিয়েছিলেন যে, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচী সম্পূর্ণরূপে শান্তিপূর্ণ এবং এটি দেশটির সার্বভৌম অধিকারের অংশ।
পারমাণবিক অস্ত্র না বানানোর গ্যারান্টি
আরাঘচি যোগ করেন, ইরান গ্যারান্টি দিতে প্রস্তুত যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র বানাবে না। তিনি দাবি করেন, যদি উভয় পক্ষের মধ্যে সদিচ্ছা থাকে, তবে এই ধরনের আশ্বাস সম্ভব এবং অর্জনযোগ্য হতে পারে। তবে, তিনি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচী বা তার আঞ্চলিক জোটের বিষয়ে আলোচনার কথা নাকচ করে দিয়েছেন। 'এই বিষয়গুলো পারমাণবিক ফাইলের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। আমরা শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করি,' বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। অন্যান্য দাবিগুলোকে তিনি একেবারে টেবিলের বাইরে বলে জানান, যা ইরানের অবস্থানের দৃঢ়তা প্রতিফলিত করে।
সামরিক প্রস্তুতির উন্নতি
মার্কিন পদক্ষেপ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত জানিয়ে আরাঘচি স্পষ্ট করে বলেন, 'আমরা একটি কূটনৈতিক সমাধানের জন্য প্রস্তুত রয়েছি, একইসঙ্গে আমরা যে কোনো নতুন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করার জন্য প্রস্তুত।' তিনি উল্লেখ করেন যে, গত বছরের ইসরাইল-মার্কিন বোমা হামলার পর থেকে ইরানের সামরিক প্রস্তুতি পরিমাণ ও গুণগত উভয় দিক দিয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। এ সময় তিনি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করে তাকে যুদ্ধবাজ হিসেবে বর্ণনা করেন, যিনি বারবার ইরানের সঙ্গে একটি বিস্তৃত যুদ্ধে ওয়াশিংটনকে টেনে আনার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেন।
যুদ্ধ এড়ানোর আগ্রহ
উত্তেজনা সত্ত্বেও, আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ এড়ানোর আগ্রহের পরামর্শ দিয়ে বলেন, 'যদি তারা সিরিয়াস হয়, আমরাও সিরিয়াস। এখন গ্যারান্টি দেয়ার দায়িত্ব ওয়াশিংটনের উপর বর্তায়, যে আলোচনা আবার সামরিক পদক্ষেপ একসঙ্গে হবে না।' তিনি আরও যোগ করেন, 'আমরা যুদ্ধ এবং কূটনীতির বিষয়ে আমাদের পাঠ শিখেছি। এখন আমরা উভয়ের জন্য প্রস্তুত।' এই মন্তব্যগুলো ইরানের কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশলের দ্বৈত প্রকৃতিকে তুলে ধরে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে কাজ করছে।
