মেক্সিকোয় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের ঐতিহাসিক আহ্বান: খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র সংগ্রাম স্মরণে ভোট দিন
মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গণতন্ত্রের জন্য জীবনব্যাপী সংগ্রাম স্মরণ করে দেশবাসীকে ভোটাধিকার প্রয়োগের ঐতিহাসিক আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।
খালেদা জিয়ার আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা
রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, খালেদা জিয়া তার সমগ্র জীবন মানুষের সেবায় ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত করেছিলেন। তিনি গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি, যার ফলে তার জীবনের শেষ দিনগুলো কারাগারে কাটাতে হয়েছে। তবুও তিনি তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।
"আজকে তিনি নেই। এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হতে পারলেন না। কিন্তু তার যে গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা, অর্থনীতির প্রতি যে উদ্বেগ, সেগুলো আপনারা নিশ্চয়ই মনে রাখবেন," বলেছেন রাষ্ট্রদূত আনসারী।
ভোটাধিকার প্রয়োগের জরুরি আহ্বান
রাষ্ট্রদূত মুশফিক ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তারা একটি ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের সীমারেখায় অবস্থানকারী সকল নাগরিককে তিনি নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার এবং নিজেদের অধিকার আদায়ের আহ্বান জানান।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দেশবাসীকে অত্যন্ত কঠিন সংগ্রাম করতে হয়েছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহে ১৪০০ তাজা প্রাণ ঝরে গেছে অসংখ্য মানুষের রক্তের বিনিময়ে, ত্যাগের বিনিময়ে গুম-খুন, জেল-জুলুমের মধ্য দিয়ে আজকের এই প্রতিনিধি নির্বাচনের দিনটি সামনে এসেছে।
দেশ গঠন ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি
রাষ্ট্রদূত আনসারী ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, "আমরা আর পেছনে ফিরে যেতে চাই না। ছাত্রদের আর শাহবাগের জড়ো করতে চাই না। এখন আমাদের দৃষ্টি নিবন্ধন করতে হবে লুক্সেমবার্গের দিকে, যেটি বিশ্বের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র।"
তিনি ছাত্রদের তাদের কর্মে নিজেকে নিয়োজিত করতে এবং যাতে তাদের আন্দোলন করতে না হয়, সেদিকে সবার খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন। নির্বাচনপরবর্তী সময়ে দেশ গঠনের দিকে সবাইকে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান তিনি।
সহনশীল বাংলাদেশের স্বপ্ন
রাষ্ট্রদূত মুশফিক নির্বাচনপরবর্তী বাংলাদেশ সম্পর্কে তার আশা প্রকাশ করে বলেন, "আমরা দেখতে চাই, নির্বাচনপরবর্তী বাংলাদেশ হবে একটি সহনশীল বাংলাদেশ"। তার মতে, এই দেশ হবে সব মতের, সব পথের, সব ধর্মের এবং সব বর্ণের মানুষের জন্য। এটি হবে উদার গণতন্ত্র ও আধুনিক বাংলাদেশ, যা বিশ্বসভায় মাথা উচু করে দাঁড়াবে।
১২ ফেব্রুয়ারির ভোট সম্পর্কে তিনি বলেন, "এই ভোট হবে গণতন্ত্রের পক্ষে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে এবং বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির পক্ষে, অর্থনৈতিক মুক্তির পক্ষে।"
নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশনা
নির্বাচন পরিচালনাকারী ও রিটার্নিং অফিসারদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রদূত আনসারী সতর্ক করে বলেন, "এমন কোনো কাজ করা ঠিক হবে না, যেটি ড. ইউনূসের সরকারের ওপর প্রভাব পড়ে"। তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করার এবং যেন তাদের কোনো কাজের দায় অন্যের ওপর না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন।
শেষে তিনি বিবেককে বিসর্জন দিয়ে কোনো কাজ না করার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীর এই বক্তব্য বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
