আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের আহ্বান: বাংলাদেশের হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করতে হবে
আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের আহ্বান: বাংলাদেশের হিন্দুদের লড়াই

আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের আহ্বান: বাংলাদেশের হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করতে হবে

ভারতের হিন্দু পুনরুত্থানবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত বাংলাদেশের হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘লড়াই’ করার আহ্বান জানিয়েছেন। মুম্বাইয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশের হিন্দুরা এবার কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও দেশ ছাড়বে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাংলাদেশের হিন্দুদের জন্য সমর্থনের প্রতিশ্রুতি

মোহন ভাগবত দাবি করেন, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হিন্দুরা তাদের সমর্থন দেবে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এখনো সোয়া এক কোটি হিন্দু রয়েছেন। তারা যদি একজোট হন, তাহলে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে রাজনৈতিক পরিসর ব্যবহার করতে পারবেন।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘খুশির বিষয় হলো—তারা পালানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। ওখানেই থাকবে এবং লড়াই করবে। লড়াইয়ের জন্য ঐক্য জরুরি।’ তার মতে, বাংলাদেশের বর্তমান হিন্দু জনগোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধ হলে নিজেদের অবস্থার উন্নতি সম্ভব।

সচেতনতা ও নিরাপত্তা প্রস্তুতির উপর জোর

আরএসএস প্রধান বলেন, এর জন্য সমাজের ভেতরে শক্তি গড়ে তোলার প্রয়োজন আছে। তিনি সিভিল ডিফেন্সের প্রশিক্ষণের কথা উল্লেখ করে বলেন, এর লক্ষ্য হবে সচেতনতা ও নিরাপত্তার প্রস্তুতি।

একই বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, সংঘের কর্মীরা ভাষা শুনে সন্দেহজনক অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে প্রশাসনকে তথ্য দেয়। তার মতে, শনাক্তকরণ ও নির্বাসনের প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে শুরু হয়েছে এবং এর গতি বাড়বে।

বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে বক্তব্যের তাৎপর্য

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের মাত্র দুদিন আগে মোহন ভাগবতের এই বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলা বেড়েছে—এমন অভিযোগ তুলে ভারত সরকার একাধিকবার ঢাকার কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছে।

তবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিবারই সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং এসব হামলা সংগঠিতভাবে হচ্ছে—এমন অভিযোগ নাকচ করেছে।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে উত্তেজনা

বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর হামলার অভিযোগে আরএসএস ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো নিয়মিত সরব রয়েছে। গত ডিসেম্বরে গার্মেন্টস শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস হত্যার ঘটনায় ভারতজুড়ে প্রতিবাদ করেছে আরএসএস, বিজেপি ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মতো সংগঠনগুলো।

দিল্লিতে বাংলাদেশের দূতাবাস, কলকাতার উপদূতাবাস ও আগরতলায় সহকারী রাষ্ট্রদূতের দপ্তরের সামনেও এসব সংগঠন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে। দীপু চন্দ্র দাস হত্যার প্রতিবাদে বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশের ভিসা অফিস ও দূতাবাসে বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি স্থানে ভিসা দেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে ঢাকা।

সংখ্যালঘু সহিংসতা নিয়ে বিতর্ক

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ডিসেম্বরে জানায়, ‘নিরপেক্ষ সূত্র’ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর দুই হাজার ৯০০-এর বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে।

তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এও বলেছিল, এসব ঘটনা অতিরঞ্জিত হিসেবে উপস্থাপন করা হতে পারে কিংবা রাজনৈতিক সহিংসতা হিসেবে দেখানো হচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের ওই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে জানায়, তারা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক অপরাধ নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

একই সঙ্গে ভারতের সংখ্যালঘুদের ওপর সংঘটিত কিছু হামলার ঘটনাও তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে মোহন ভাগবতের বক্তব্য বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।