যুক্তরাষ্ট্রে নিহত ব্রিস্টির মরদেহ দেশের পথে
যুক্তরাষ্ট্রে নিহত ব্রিস্টির মরদেহ দেশের পথে

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বাংলাদেশি ডক্টরেট শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত নাহিদা সুলতানা ব্রিস্টির মরদেহ দেশে ফিরতে শুরু করেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ পাঠানো হয়।

ফ্লাইট রুট ও আগমন

ফ্লাইটটি দুবাই হয়ে শনিবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এমিরেটস ফ্লাইট ইকে ০৫৮২ নির্ধারিত সময়ে ঢাকা পৌঁছাবে।

প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিয়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধি অরল্যান্ডো বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন এবং প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধান করেছেন। গত ১৬ এপ্রিল ব্রিস্টি ও জামিল আহমেদ লিমন নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের নির্দেশনায় মিয়ামি কনস্যুলেট তদন্তকারী পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও টাম্পায় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় পুলিশ বিভাগ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। দূতাবাস মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ও ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের সঙ্গেও যোগাযোগ রেখেছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে দূতাবাস মরদেহ দেশে ফেরানোর সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

জানাজা ও দাফন

এর আগে বুধবার টাম্পায় ব্রিস্টির প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য এতে অংশ নেন। অন্যদিকে, লিমনের মরদেহ ৪ মে দেশে পৌঁছানোর পর জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় দাফন করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার বিবরণ

লিমন ও ব্রিস্টি, উভয়ই ২৭ বছর বয়সী বাংলাদেশি ডক্টরেট শিক্ষার্থী, ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হন। লিমনকে শেষবার ক্যাম্পাসের বাইরের একটি কমপ্লেক্সে দেখা গিয়েছিল, যেখানে তিনি সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘারবিহ (২৬) ও আরেক রুমমেটের সঙ্গে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাগ করতেন।

গোয়েন্দারা সেলফোন লোকেশন ও লাইসেন্স প্লেট রিডার ডেটা ব্যবহার করে আবুঘারবিহের গাড়ি ও লিমনের ফোন ট্র্যাক করে সেই ব্রিজে পৌঁছান, যেখানে ২৪ এপ্রিল লিমনের মরদেহ পাওয়া যায়। প্রসিকিউটরদের রিপোর্ট অনুযায়ী, লিমনের শরীরে অসংখ্য ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তাকে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল।

১ মে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস দ্বিতীয় মরদেহটি ব্রিস্টির বলে নিশ্চিত করে। ঘটনার কয়েকদিন পর সন্দেহভাজনকে তার বাবা-মায়ের বাড়ি থেকে সোয়াট টিম গ্রেপ্তার করে। আদালত তাকে জামিন ছাড়া আটক রাখার নির্দেশ দেয়।