মমতার পদত্যাগ না করা সাংবিধানিকভাবে অগ্রহণযোগ্য: বিশেষজ্ঞ
মমতার পদত্যাগ না করা সাংবিধানিকভাবে অগ্রহণযোগ্য

নির্বাচনে পরাজয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা ব্যানার্জির পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানানো দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন এবং এটি একইসঙ্গে সাংবিধানিকভাবে অগ্রহণযোগ্য ও অপ্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেছেন দেশের বিশিষ্ট সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞরা। মঙ্গলবার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মমতা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করলেন কি না, তা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়; কারণ সংবিধান অনুযায়ী গভর্নর একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে বাধ্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর পুরনো বিধানসভা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং মুখ্যমন্ত্রীসহ বিদায়ী মন্ত্রিসভা তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতা হারায়।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত

সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি কে. সঞ্জয় কিশান কউল বলেন, একটি দল নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হয় এবং মেয়াদ শেষে সেই দল আর ক্ষমতায় থাকতে পারে না। তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফলে অসন্তুষ্ট হলে তারা আইনি পথে লড়াই করতে পারেন, কিন্তু ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকা সম্ভব নয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই পরিস্থিতিতে গভর্নরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিচারপতি কউল বলেন, এ বিষয়ে গভর্নরকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল কে.কে. বেণুগোপালও একই অভিমত প্রকাশ করে বলেন, বৃহত্তম দলের নেতাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো সাংবিধানিক রীতি এবং গভর্নরের বিশেষ অধিকার। মমতা পদত্যাগ করতে অস্বীকার করলেও, সংবিধান অনুযায়ী গভর্নর নতুন মুখ্যমন্ত্রী এবং তার মন্ত্রিসভাকে শপথ পড়াতে পারেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন পরবর্তী পরাজয়ের পর মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ না করার এমন কোনও নজির তার জানা নেই।

সংবিধান ও আইন যা বলছে

কলকাতার আইনজীবী দীপন কুমার সরকার জানান, নতুন সরকার শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আগের মন্ত্রিসভার অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যায়। এর আগে প্রয়োজনে গভর্নর আগের মন্ত্রিসভা বরখাস্ত করতে পারেন কিংবা রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংবিধানের ১৬৩ ও ১৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গভর্নর তার বিশেষ ক্ষমতায় যেকোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং তার সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়। এছাড়া সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রতিটি রাজ্য বিধানসভার মেয়াদ পাঁচ বছর। ২০২১ সালের ৮ মে প্রথম অধিবেশন হওয়ায়, বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ আগামী ৭ মে শেষ হচ্ছে। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্ধারিত মেয়াদের পর বিধানসভা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ভেঙে যায়।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া