ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জয়লাভ করেছে, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। সোমবার ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, বিজেপি রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় পেয়েছে, যা বিশ্লেষকদের মতে ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি এবং ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে জন–অসন্তোষের ফল।
ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তনের ধারা
নয়াদিল্লিতে বসবাসরত গৃহকর্মী সীমা দাসের মতো অনেক ভোটার এবারের নির্বাচনে তাঁদের ঐতিহ্যবাহী ভোট দেওয়ার ধারা পরিবর্তন করেছেন। সীমা দাস আগে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিলেও এবার শাশুড়ির কথায় মত পাল্টান, যিনি অভিযোগ করেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুসলিমদের বেশি সুবিধা দেন। এই অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে করে আসছে।
পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের ফল
পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ভারতের আরও চারটি রাজ্যের নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়। তামিলনাড়ুতে অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বে নতুন দল তামিলাগা ভেত্তরি কাজাগাম জয় পেয়েছে, কেরালায় কংগ্রেস বামপন্থী জোটকে হারিয়েছে, আসামে বিজেপি টিকে গেছে, এবং পদুচেরিতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় এসেছে।
মমতার পতনের কারণ
বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেস ভোটারদের সামনে নতুন কিছু উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং সরকারবিরোধী ক্ষোভ সামাল দিতে পারেনি। পাশাপাশি, বিজেপির সংগঠিত প্রচারণা এবং ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি কাজে লেগেছে। নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় ৯০ লাখের বেশি ভোটারকে বাদ দেওয়া হয়, যা বিরোধী দলগুলোর অভিযোগে পক্ষপাতমূলক ছিল।
ভোটার তালিকা সংশোধন বিতর্ক
ভারতীয় নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের একটি বিশেষ প্রক্রিয়া চালায়, যাতে ৯০ লাখের বেশি মানুষকে বাদ দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লাখকে মৃত বা অনুপস্থিত দেখানো হয়, আর ৩০ লাখ মামলার শুনানির অভাবে ভোট দিতে পারেননি। তৃণমূল কংগ্রেস এই প্রক্রিয়াকে অস্বচ্ছ ও অসাংবিধানিক বলে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করে, তবে আদালত সরাসরি ভোটাধিকার ফিরিয়ে না দিয়ে বাদ পড়া ভোটারদের তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেয়।
বিজেপির জয়ের তাৎপর্য
বিজেপির এই জয় প্রতীকীভাবেও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের শিকড় পশ্চিমবঙ্গে। বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বকে জাতীয়ভাবে শক্তিশালী করেছে এবং ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিজেপির অবস্থান মজবুত করবে।
মমতার ভবিষ্যৎ
পরাজয় স্বীকার না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কর্মীদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে তৃণমূলের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, সামনে নাটকীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে।



