মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাম্প্রতিক শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনার কথা জানালেও তেহরানের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক সমঝোতার বিষয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন। জেরুজালেম থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ট্রাম্প দাবি করেছেন যে গত ৪৭ বছর ধরে মানবতার বিরুদ্ধে ইরান যা করেছে, তার জন্য তারা এখনো ‘যথেষ্ট বড় মূল্য দেয়নি’। এই মন্তব্যের ফলে দুই দেশের মধ্যকার অচলাবস্থা নিরসনে কোনো বড় অগ্রগতির সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে এবং পুনরায় সামরিক হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইসরাইলের প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য পাল্টা হামলা
ইসরাইলি সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং পাল্টা জবাব হিসেবে তেহরানও ইসরাইলে হামলা চালাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুদ্ধ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের এই আবহে পাকিস্তান ও ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা চললেও তা বারবার হোঁচট খাচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে হরমুজ প্রণালিতে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবরোধের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাব
ইরান সম্প্রতি একটি ১৪ দফার নতুন প্রস্তাব পেশ করেছে যাতে ৩০ দিনের মধ্যে অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা বাতিল এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ সব ফ্রন্টে শত্রুতা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। তবে ট্রাম্প ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই প্রস্তাবের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ট্রাম্পকে এখন একটি ‘অসম্ভব সামরিক অভিযান’ অথবা ইরানের সাথে একটি ‘খারাপ চুক্তি’—এই দুটির মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে।
অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ
নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ধীরগতি ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই জার্মানির সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে ট্রাম্প সেখান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন, যা মার্কিন কংগ্রেস ও মিত্র দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি এখন এক অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে।



