ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়ে বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া ও আস্থার ভিত্তি শক্ত করতে হবে। তিনি শনিবার (২ মে) বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় গ্যালারি কায়ায় শিল্পী রনজিৎ দাসের একক শিল্প প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
সম্পর্কের ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর জোর
পাওয়ান বঢ়ে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক ইতিবাচক পথে এগিয়েছে এবং এই ধারা বজায় রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, সীমান্ত সহযোগিতা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সংযোগ বাড়াতে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ ইতোমধ্যে সুফল দিতে শুরু করেছে। নিয়মিত সংলাপ, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই এই সম্পর্ক আরও উচ্চতায় পৌঁছানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্ব
তিনি আরও বলেন, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে সম্পর্ক আরও গভীর হবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার প্রশংসা করে তিনি জানান, এই অগ্রগতির ধারায় ভারত পাশে থাকতে আগ্রহী। পাশাপাশি দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টা দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
ভৌগোলিক সীমারেখা ছাড়িয়ে সম্পর্কের গভীরতা
পাওয়ান বঢ়ে বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক শুধু ভৌগোলিক সীমারেখায় সীমাবদ্ধ নয়; ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জনগণের আন্তঃসম্পর্ক এই বন্ধনকে আরও গভীর করেছে। এই ভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, যোগাযোগ ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
শিল্প প্রদর্শনীর উদ্বোধন ও শিল্পীর বক্তব্য
প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন শুধু শিল্প প্রদর্শনের নয়, বরং শিল্পী ও দর্শকের মধ্যে ভাব বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। গ্যালারি কায়ার পরিচালক শিল্পী গৌতম চক্রবর্তী রনজিৎ দাসের কাজকে স্বতন্ত্র ধারা হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, সরল রেখা ও শূন্যতার ব্যবহার দিয়ে শিল্পী গভীর অনুভূতি প্রকাশ করেন। নিজের বক্তব্যে রনজিৎ দাস জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণ ও প্রকৃতির সংস্পর্শ তার শিল্পকর্মকে সমৃদ্ধ করেছে এবং সেই অভিজ্ঞতাই তার কাজের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রদর্শনীর বিবরণ
‘কাঠি ড্রয়িংস অ্যান্ড আদার্স’ শীর্ষক এই প্রদর্শনীতে শিল্পীর ৬৫টি কাজ স্থান পেয়েছে, যা সমসাময়িক শিল্পচর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করছে। প্রদর্শনী প্রতিদিন বেলা সাড়ে ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে এবং এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। এতে জলরং, মিশ্রমাধ্যম, কালি ও চারকোলে আঁকা কাজের পাশাপাশি শিল্পীর স্বাক্ষরযুক্ত সীমিত সংস্করণের পোর্টফোলিও প্রদর্শিত হচ্ছে।



