কলকাতায় ইভিএম স্ট্রংরুমে পোস্টাল ব্যালটের খাম অবৈধভাবে সরানো ও বাছাইয়ের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এ খবর জানিয়েছে।
বিতর্কের কেন্দ্রে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুম, যেখানে উত্তর ও পূর্ব কলকাতার বেশ কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটিং মেশিন রাখা আছে। তৃণমূল কর্মীদের দাবি, শনিবার ভোর ৪টার দিকে ৮টি ট্রাঙ্ক ভর্তি পোস্টাল ব্যালট সেখানে আনা হয় এবং সেগুলো এমন একটি কক্ষে নেওয়া হয়, যেখানে সিসিটিভি নজরদারি নেই।
তৃণমূলের এক সদস্য বলেন, 'আমরা দাবি জানিয়ে আসছি যে, ইভিএম ও পোস্টাল ব্যালট যেখানে রাখা আছে তার প্রতিটি ইঞ্চি যেন সিসিটিভি নজরদারির আওতায় থাকে। কিন্তু এই ট্রাঙ্কগুলো সিসিটিভি কভারের বাইরে থাকা একটি কক্ষে নেওয়া হয়েছে। এমনটা কেন হবে?'
বিজেপির পাল্টা অভিযোগ
এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়ালে ঘটনাস্থলে পৌঁছান শ্যামপুকুর আসনের বিজেপি প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তী ও তার সমর্থকরা। দুই পক্ষের মধ্যে স্লোগান-পাল্টা স্লোগানের একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। বিজেপি প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তী অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, 'হারের ভয়ে তৃণমূল কর্মীরা স্ট্রংরুমের বাইরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।'
বারাসাতে একই ধরনের অস্থিরতা
উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত সরকারি কলেজের স্ট্রংরুমের বাইরেও একই ধরনের অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ, সকালে ১৭ মিনিটের জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ ছিল। অশোকনগরের তৃণমূল প্রার্থী নারায়ণ গোস্বামী ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভেতরে প্রবেশের দাবি জানান।
বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, সিসিটিভি ব্যবস্থা পুরোপুরি সচল ছিল। তিনি বলেন, 'বাইরের মনিটরের পাওয়ার কেবল বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে একটি যান্ত্রিক ত্রুটি হয়েছিল।' ওই ১৭ মিনিটের ফুটেজ তৃণমূল বা যে কোনও দলের চাহিদামত সরবরাহ করা হবে বলে তিনি জানান।
পূর্ব বর্ধমানে দেয়াল টপকে প্রবেশের ভিডিও
পূর্ব বর্ধমান জেলায় ইভিএম সংরক্ষিত স্থাপনায় দেয়াল টপকে প্রবেশের একটি ভিডিও ছড়িয়ে দেয় বিজেপি। তবে নির্বাচন কমিশন এই দাবি নাকচ করে জানিয়েছে, ভিডিওটি পুরোনো এবং ওই ব্যক্তি সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা ও এসি বসানোর কাজে নিয়োজিত ছিলেন।



