যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, জননিরাপত্তা রক্ষা এবং ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনা রোধে ফিলিস্তিনপন্থি কিছু বিক্ষোভ মিছিল নিষিদ্ধ করা যুক্তিসঙ্গত হতে পারে। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
স্টারমারের অবস্থান
স্টারমার শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে সমর্থন করলেও মিছিলে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট কিছু স্লোগানকে ‘পুরোপুরি নিষিদ্ধ’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায়, যেখানে একটি বড় ইহুদি সম্প্রদায় বসবাস করে, সেখানে সাম্প্রতিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তার এই মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিক্ষোভের ভাষার ওপর নজরদারি
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিক্ষোভের সময় ব্যবহৃত ভাষার ওপর নজরদারি বাড়ানো হবে এবং উত্তেজনামূলক বা বিদ্বেষী বক্তব্য ছড়ানোর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। তার মতে, প্রতিবাদের নামে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা জাতিগত সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা এবং তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়।
পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা
গোল্ডার্স গ্রিনের মতো স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধে পুলিশকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্টারমারের এই অবস্থান ব্রিটেনের মানবাধিকার কর্মী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তারা মনে করছেন, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হতে পারে।
সরকারের কঠোর অবস্থান
ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইহুদিবিদ্বেষ বা যেকোনো ধরনের বর্ণবাদী আচরণ নিয়ন্ত্রণে কোনো আপস করা হবে না। গত কয়েক সপ্তাহে গাজা ও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে লন্ডনের রাজপথে বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজিত হয়েছে, যা মাঝে মাঝেই পুলিশের সঙ্গে সংঘাতের রূপ নিয়েছে।
ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
প্রশাসন বলছে, জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি বজায় রাখতে নির্দিষ্ট কিছু মিছিলের গতিপথ পরিবর্তন বা সমাবেশের সময় কমিয়ে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। সরকারের এই নতুন কড়াকড়ির ফলে আগামী দিনগুলোতে লন্ডনের রাজপথে প্রতিবাদ কর্মসূচির ধরণ বদলে যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের এই অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত বেশ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে গাজা পরিস্থিতির কারণে যখন বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে জনমত বাড়ছে, তখন লন্ডনে এই ধরনের বিধিনিষেধ রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিতে পারে। ব্রিটিশ সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে বিক্ষোভকারীরা এখন বিকল্প উপায়ে তাদের দাবি তুলে ধরার চিন্তা করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিক্ষোভ দমনে নতুন কোনো আইনি কাঠামো তৈরি করবে কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর। তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই।



