জার্মানি থেকে আগামী ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে পেন্টাগন। ইরান যুদ্ধকে ঘিরে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সঙ্গে বিরোধের জেরে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এগোচ্ছে ওয়াশিংটন। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
বর্তমানে জার্মানিতে অবস্থানরত ৩৬ হাজার মার্কিন সেনার মধ্যে প্রায় ১৪ শতাংশ এই সিদ্ধান্তের ফলে নিজ দেশে ফিরে যাবে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। তিনি দাবি করেছিলেন, ইরানের নেতৃত্বের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপমানিত’ হচ্ছে এবং যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটনের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছিলেন।
শুক্রবার ফ্লোরিডায় এক র্যালি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর না দিলেও, ট্রাম্প এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, জার্মানিতে সেনা কমানোর সম্ভাবনা পর্যালোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র এবং শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার তিনি মের্ৎসেকে বলেন, ইরান নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং নিজ দেশের সমস্যার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের পর এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটরা এবং ওয়াশিংটনের একটি কট্টরপন্থী থিংক ট্যাংক। ডেমোক্রেট দলীয় আইনপ্রণেতারা এই সিদ্ধান্তকে ‘বেপরোয়া’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির জ্যেষ্ঠ ডেমোক্রেট সিনেটর জ্যাক রিড বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে আমাদের মিত্রদের প্রতি প্রতিশ্রুতি প্রেসিডেন্টের মেজাজের ওপর নির্ভরশীল। দ্রুত এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও জোটের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে আনবে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্র্যাডলি বোম্যান বলেন, ইউরোপে মার্কিন উপস্থিতি কেবল ক্রেমলিনের আগ্রাসনই কমায় না, বরং মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাতেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রদর্শনে সহায়তা করে। এই প্রত্যাহার সরাসরি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সুবিধা দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিজের প্রথম মেয়াদেও জার্মানি থেকে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। তবে সেই পরিকল্পনাটি ২০২১ সালে ক্ষমতায় এসে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করেন। উল্লেখ্য জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে ইউরোপ ও আফ্রিকা কমান্ডের সদর দফতর, রামস্টেইন বিমানঘাঁটি এবং ল্যান্ডস্টুলের চিকিৎসাকেন্দ্র অন্যতম। আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের আহত সেনাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এসব স্থাপনায়। এছাড়া দেশটিতে মার্কিন পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রও মোতায়েন রয়েছে।



