ভোট গণনায় কেন্দ্রীয় কর্মী নিয়োগ: সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূল
ভোট গণনায় কেন্দ্রীয় কর্মী নিয়োগ: সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূল

আগামী ৪ মে অনুষ্ঠেয় ভোট গণনায় কেবল কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিংয়ের (পিএসইউ) কর্মীদের সুপারভাইজার ও সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

জরুরি শুনানির আবেদন

শুক্রবার দলটি এ বিষয়ে জরুরি শুনানির আবেদন জানালে বিচারপতি পি এস নরসিংহ এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ বেঞ্চ শনিবার (২ মে) মামলাটি শোনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এ খবর জানিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার (সিইও) কার্যালয় থেকে সম্প্রতি এক নির্দেশনায় জানানো হয়, প্রতিটি গণনা টেবিলের সুপারভাইজার অথবা সহকারীর মধ্যে অন্তত একজনকে কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান বা পিএসইউ-এর কর্মী হতে হবে। তৃণমূল এই নির্দেশনার বিরোধিতা করে দাবি করেছে, এ ধরনের আদেশ কেবল নির্বাচন কমিশনই দিতে পারে, অতিরিক্ত সিইও নন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তৃণমূলের যুক্তি

তৃণমূলের যুক্তি, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকায় গণনা কর্মীদের জন্য এ ধরনের কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। সাধারণত কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে মাইক্রো-অবজারভার নিয়োগ করা হলেও, গণনা কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম চাপিয়ে দেওয়াকে বৈষম্যমূলক এবং কেবল পশ্চিমবঙ্গের জন্য প্রযোজ্য বলে দাবি করেছে দলটি।

পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কা

সুপ্রিম কোর্টে করা আবেদনে তৃণমূল আরও অভিযোগ করেছে যে, যেহেতু কেন্দ্রীয় সরকার একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, তাই কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীরা পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারেন। এর ফলে ভোট গণনার সময় সব দলের সমান সুযোগ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কলকাতা হাইকোর্টের রায়

তবে কলকাতা হাইকোর্ট তৃণমূলের এসব যুক্তি খারিজ করে দিয়ে জানিয়েছিলেন, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রীয় বা রাজ্য উভয় সরকারের মধ্য থেকেই গণনা কর্মী নিয়োগ করা যেতে পারে। আদালত আরও জানায়, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সম্পূর্ণভাবে নির্বাচনি কর্তৃপক্ষের। এ ছাড়া সিসিটিভি এবং প্রার্থীর এজেন্টদের উপস্থিতির মতো পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থা থাকায় তৃণমূলের পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কাকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন হাইকোর্ট। এরপরই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল।

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা

নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণের সময় তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ এবং হুমকি-ধমকির অভিযোগের মধ্যেই এই আইনি লড়াই শুরু হলো। 'ইউপি সিংহম' নামে পরিচিত উত্তর প্রদেশের এক জ্যেষ্ঠ আইপিএস কর্মকর্তা অজয় পাল শর্মা ভোট গ্রহণে বাধা না দিতে তৃণমূলের এক প্রার্থীকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করায় তৃণমূল তার তীব্র সমালোচনা করেছে। বিজেপি অবশ্য সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এই কড়াকড়িকে সমর্থন জানিয়েছে।

অভিষেকের অভিযোগ

তৃণমূলের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেছেন, হাওড়ায় এক বৃদ্ধকে তার ছেলে ভোট দিতে নিয়ে যাওয়ার সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ধাক্কায় ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর এমন ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছে তৃণমূল।