যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের ওপর থেকে ইরানের আস্থা ‘পুরোপুরি নষ্ট’ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে ফোনালাপে তিনি এ মন্তব্য করেন। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের অভিযোগ
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেজেশকিয়ান বলেন, সংলাপ ও কূটনীতি সব সময় ইরানের অগ্রাধিকার তালিকায় ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ‘(অতীতে) আলোচনা চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র ও জায়োনিস্ট শাসনগোষ্ঠী (ইসরায়েল) দুবার ইরানে হামলা চালিয়েছে। আবারও এ ধরনের হামলার আশঙ্কা রয়েছে। আর এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরান আর কোনো ভরসা রাখতে পারছে না।’
পারমাণবিক কর্মসূচি ও হামলার ইতিহাস
২০২৫ সালের জুনে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মধ্যে প্রথমবার ইরানে যৌথ হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে আবারও আলোচনা চলা অবস্থায় দ্বিতীয় দফা হামলার শিকার হয় তেহরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের জেরে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
যুদ্ধবিরতি ও আলোচনা
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়। এরপর ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে পাকিস্তানের অনুরোধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেননি। এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেন।
বেলারুশের প্রেসিডেন্টের উদ্বেগ
ফোনালাপে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং এর ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংলাপের মাধ্যমেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার এই সংকটের সমাধান হবে।



