যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে গুলির ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পর চার দশক আগের এক ভয়াবহ হামলার স্মৃতি আবার সামনে এসেছে। ঠিক একই হোটেলে এমনই ভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের আরেক প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতের এ ঘটনায় এক বন্দুকধারী নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙার চেষ্টা করলে সিক্রেট সার্ভিস দ্রুত ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। কর্মকর্তারা জানান, হামলাকারী শটগান নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করে এবং এক পর্যায়ে গুলি চালায়। তবে সুরক্ষামূলক পোশাক থাকায় এক সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট প্রাণে বেঁচে যান।
তবে এই ঘটনার পর আবারও আলোচনায় এসেছে ১৯৮১ সালের ৩০ মার্চের ঘটনা, যখন একই হোটেলের বাইরে গুলিবিদ্ধ হন যুক্তরাষ্ট্রের ৪০তম প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান। সেদিন জন হিঙ্কলি জুনিয়র নামের এক হামলাকারী রিগানকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
রোনাল্ড রিগান প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরির তথ্য অনুযায়ী, সেদিন রিগান এএফএল-সিআইওর ৫,০০০ সদস্যের সামনে বক্তৃতা দিয়ে বের হচ্ছিলেন। তখন হিঙ্কলি তার ২২ ক্যালিবার রিভলভার থেকে ডেভাস্টেটর বুলেট ছোড়েন। একটি গুলি লিমুজিন থেকে ছিটকে রিগানের বাম বগলের নিচে লাগে। এতে তার ফুসফুস ফুটো হয়ে যায় এবং ভেতরে মারাত্মক রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
সেই হামলায় প্রেস সেক্রেটারি জেমস ব্র্যাডি, সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট টিমোথি ম্যাকার্থি এবং পুলিশ অফিসার টমাস ডেলাহান্টিও আহত হন। রিগানের বুকে গুলি লেগেছে বোঝা যায়নি যতক্ষণ না তিনি কাশির সঙ্গে রক্ত বের হতে শুরু করেন। তাকে দ্রুত জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বারো দিন হাসপাতালে থাকার পর তিনি হোয়াইট হাউসে ফিরতে পেরেছিলেন।
কাকতালীয়ভাবে একই হোটেলে একই পদবীর মানুষ পর পর মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসলেন। যদিও রিগান গুলিবিদ্ধ হলেও এ যাত্রায় বেচে গেলেন ট্রাম্প।



