টি-টোয়েন্টি সিরিজ সামনে রেখে নিউজিল্যান্ডের তারকা স্পিনার ইশ সোধি দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। বাংলাদেশের ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে মনে করছেন তিনি। সোধি বলেন, 'বাংলাদেশ খুব প্যাশনেট ক্রিকেট জাতি। ছেলেরা খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ আশা করছি।'
বিশ্বকাপ না খেলার প্রভাব
নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কারণে সবশেষ ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেনি বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে না খেলার পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে লিটন, সাইফ, হৃদয়রা। এই কিউই তারকার মতে, সবশেষ বিশ্বকাপ না খেলতে পারায় বাংলাদেশ আগামী বিশ্বকাপে ভালো করতে মরিয়া হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, 'জানি না এটা তাদের মানসিকভাবে কতটা প্রভাব ফেলবে। সবাই নিশ্চয়ই পরের বিশ্বকাপে অনেক ভালো করতে চাইবে। অতীতে যা চলে গেছে তা নিয়ে ভেবে লাভ নেই।'
নতুন মুখের আগমন
এই সিরিজে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড দলে একাধিক নতুন মুখ রয়েছে, যারা প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে। এ বিষয়ে সোধি বলেন, 'এখন তরুণরা আসছে। কেউ কেউ এই প্রথম খেলবে। তারা নিশ্চয়ই এটা ভাববে, আমি আমার হোম ক্রাউডের সামনে দেশের হয়ে খেলছি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দুই বছর পরপর হয়, ব্যাপারটা দারুণ। তাই বিশ্বকাপের জন্য তারা এখনই তৈরি হওয়ার সুযোগ পাবে। যা চলে গেছে তা তো চলেই গেছে।'
বাংলাদেশের পেস আক্রমণে মুগ্ধ
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস ইউনিট দারুণ করছে। টাইগারদের পেসারদের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ এই কিউই তারকা। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশি পেসারদের পারফরম্যান্স মনোমুগ্ধকর। যেভাবে বল করছে, বিশ্বের যেকোনো দলকে চ্যালেঞ্জে ফেলতে পারবে।' মুস্তাফিজ ও নাহিদ রানাকে যে কোনো দলের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তিনি। বলেন, 'মোস্তাফিজ ও নাহিদ গত সিরিজে যেভাবে বল করেছে, তারা ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ। তবে এটা নতুন দল, নতুন চ্যালেঞ্জ। মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে আগে খেলা হয়েছে, তাই পুরোনো বোলারদের ব্যাপারে কৌশল সাজানো যায়। কিন্তু এখন তো পুরো নতুন আক্রমণ।'
নাহিদ রানার প্রশংসা
ইতিমধ্যে বল হাতে ক্রিকেট বিশ্বে আলোড়ন তুলেছেন নাহিদ রানা। সোধি স্বীকার করেছেন, এই তরুণ টাইগার পেসারের মতো বল করতে খুব কমই দেখেছেন তিনি। বলেন, 'নাহিদ রানাকে আগে বল করতে দেখিনি। তবে শুনেছি ওর প্রতিটি বল উচ্চ গতির, তা-ও ১০ ওভার জুড়ে। আমি আগে এভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কাউকে বল করতে দেখিনি, বিশেষ করে এশিয়ান কন্ডিশনে। খুব চ্যালেঞ্জিং মনে হচ্ছে।'
বাংলাদেশের কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের কন্ডিশনে ম্যাচ খেলা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করেন তিনি। বলেন, 'বাংলাদেশে যখন প্রথম এসেছিলাম, ২০১৩ সালে। পুরো ভিন্ন দল ছিল। এখন অনেকেই নতুন এসেছে। বাংলাদেশ এখন শক্তিশালী দল হয়ে উঠেছে। তবে ২০১৩ সালের দলের কেউই এখন নেই। তাই ভালো চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে। অনেকেই হয়তো দলে আছে, যারা এখনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি। তবে এটাই খেলার সৌন্দর্য, পরিবর্তন হতে থাকবেই। বাংলাদেশ এই কন্ডিশনে সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং দল। আমরা এই চ্যালেঞ্জের জন্য মুখিয়ে আছি।'



