গজারিয়ায় ফুলদী নদী থেকে উদ্ধার তরুণীর লাশের পরিচয় শনাক্ত, চার গ্রেপ্তার
গজারিয়ায় ফুলদী নদী থেকে উদ্ধার তরুণীর লাশ শনাক্ত

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ফুলদী নদী থেকে গলায় সালোয়ার বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া তরুণীর (১৯) লাশের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে নদীতে লাশ ফেলে দেওয়া হয়েছে। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা

ঘটনায় জড়িত চার জনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। তারা হলেন- আবু কালাম (৪৮), জামাল হোসেন (৪৪), রাসেল মিয়া (৪৪) এবং আল আমিন প্রধান (৫০)। তারা গজারিয়ার বড় ভাটেরচর এলাকার বাসিন্দা।

লাশ উদ্ধার ও পরিচয় শনাক্ত

গত শুক্রবার (২৯ মে) সকালে ফুলদী নদী থেকে গলায় সালোয়ার বাঁধা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করেছিল নৌ-পুলিশ। লাশে পচন ধরায় ওই দিন পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পরে পিবিআইয়ের মুন্সীগঞ্জের একটি ক্রাইম সিন টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচয় শনাক্ত করে। ওই তরুণী গজারিয়ার হোসেন্দী ইউনিয়নের বাসিন্দা। লাশ উদ্ধারের পর তার বোন বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার বিবরণ

পিবিআই জানায়, গ্রেফতারকৃত আবু কালামের কাছে ২৫ হাজার এবং রাসেলের কাছে ১০ হাজার টাকা পাওনা ছিলেন ওই তরুণী। জামালের সঙ্গে আগে থেকেই সম্পর্ক ছিল তার। তারা তিন জনে মাঝেমধ্যে তরুণীর কাছ থেকে টাকা ধার নিতো। কিন্তু ফেরত দিতো না। এ নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে তরুণীকে হত্যার পরিকল্পনা করে তারা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিকল্পনা ও হত্যাকাণ্ড

রবিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পিবিআই মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসমা আরা জাহান জানান, ঘটনার ১৫ দিন আগেই গ্রেফতারকৃতরা হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে তরুণীকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ২৬ মে সন্ধ্যায় কৌশলে তাকে বড় ভাটেরচর নদীর তীরে ডেকে নেওয়া হয়। পরে নৌকায় করে নদীর ওপারে একটি ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে তার পরনের সালোয়ার দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেয়। আসামিরা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে আজ।

আদালতে স্বীকারোক্তি

মুন্সীগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক কামরুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আসামিরা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে মুন্সীগঞ্জ আমলি আদালত-৫-এর বিচারক জিনিয়া ইসলামের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে আজ। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।’