১৮ বছর পর চাকরির নিয়োগপত্র, অবসরের বয়সে হতাশা
১৮ বছর পর চাকরির নিয়োগপত্র, অবসরের বয়সে হতাশা

সরকারি চাকরির জন্য নিয়োগপত্র সাধারণত যেকোনও চাকরিপ্রার্থীর জন্য এক পরম আনন্দের মুহূর্ত নিয়ে আসে। কিন্তু কেরালার এক ব্যক্তির জন্য তা চরম হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে র‍্যাংক তালিকা থেকে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন, তার মেয়াদ শেষ হওয়ার দীর্ঘ ১৮ বছর পর, একেবারে অবসরের বয়সে পৌঁছে তিনি এই নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছেন।

হঠাৎ নিয়োগপত্র পেয়ে বিস্ময়

ভারতের কেরালা রাজ্যের মালাপ্পুরম জেলার কালিকাভুর বাসিন্দা আবদুল মজিদ গত মাসে যখন কেরালা পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) থেকে খণ্ডকালীন জুনিয়র আরবি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের একটি সুপারিশপত্র পান, তখন তিনি চরম বিস্ময় প্রকাশ করেন। সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনা হলো, মজিদ ২০০৫ সালে এই পিএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন এবং যে তালিকা থেকে তাকে নির্বাচন করা হয়েছে, সেটির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল ২০০৮ সালেই।

দীর্ঘ অপেক্ষা ও হতাশা

হতাশ মজিদ শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি চাকরি করা তার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ছিল। তালিকায় নাম আসার পর তিনি অত্যন্ত আশাবাদী হয়ে অপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু কোনও যোগাযোগ ছাড়াই বছরের পর বছর কেটে যাওয়ায় তিনি ধীরে ধীরে সেই আশা ছেড়ে দেন। বয়স ৬০ পার হওয়ার পর সেই আশার আলোটুকুও পুরোপুরি নিভে যায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মজিদ আক্ষেপ করে বলেন, পিএসসি থেকে এই নিয়োগপত্রটি ইস্যু করতে ১৮ বছর সময় লেগেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এত বেশি বিলম্ব হয়েছে যে, এখন এই পদে চাকরি করার মতো বাস্তব কোনও সুযোগ বা পরিস্থিতি আমার আর নেই।

শূন্য পদের কারণ

জানা গেছে, একাধিকবার বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানোর পরও যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় শূন্য থাকা একটি পদের বিপরীতে আবদুল মজিদকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনগত জটিলতা

নিয়ম অনুযায়ী, নিয়োগপত্র পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়ে তিন মাসের মধ্যে চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা তার। তবে মজিদের এসএসএলসি সার্টিফিকেট অনুযায়ী তার জন্মতারিখ ২৭ মে, ১৯৬৬। ফলে নির্ধারিত অবসরের বয়স পার হয়ে যাওয়ায় আইনিভাবেও এখন আর এই চাকরিতে যোগ দেওয়ার কোনও যোগ্যতা তার নেই।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে