মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের প্রথম বিদেশ সফর ভারতে
মিন অং হ্লাইংয়ের প্রথম বিদেশ সফর ভারতে

মিয়ানমারের ‘বেসামরিক’ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে গেছেন দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। তার এই সফরের গন্তব্য ভারত। ইতিমধ্যে তিনি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

দুই দেশের সরকারি তথ্যে গুরুত্বপূর্ণ সফর

দুই দেশের সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ এই সফরে মিন অং হ্লাইংয়ের ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। এছাড়া পাঁচ দিনের এই সফরে তিনি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় বিহার রাজ্যে লাল গালিচা সংবর্ধনার মাধ্যমে হ্লাইংকে স্বাগত জানানোর ছবি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই সফর আমাদের দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান শক্তিশালী আধ্যাত্মিক, ঐতিহাসিক ও জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং চলমান সহযোগিতার গভীরতাকেই প্রতিফলিত করে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদি মুর্মুর সঙ্গে বৈঠক করবেন হ্লাইং। এরপর তিনি মুম্বাই সফর করবেন। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জয়সওয়াল বলেন, ‘দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও কীভাবে জোরদার করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করবেন।’

অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্য

তিনি আরও বলেন, ‘সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক দিকও রয়েছে। দুই দেশ কীভাবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হবে।’ নয়াদিল্লির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯৫ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৩ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মিন অং হ্লাইংয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ

সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের প্রায় পাঁচ বছর পর গত এপ্রিলে মিন অং হ্লাইং মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি বেসামরিক পদে থেকেও কার্যত দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বে অবস্থান ধরে রাখেন। তার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রতিবেশী চীন, ভারত ও থাইল্যান্ডের প্রতিনিধিসহ মোট ২০টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।