রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে তাঁর অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
বীর সেনানীর অসামান্য অবদান
রাষ্ট্রপতি বলেন, "এই পবিত্র দিনে আমি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি এই বীর সেনানী, মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথিকৃৎ, আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কের অসামান্য অবদান।" তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার ইতিহাসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একটি অবিস্মরণীয় নাম।
স্বাধীনতা ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে এই সাহসী সৈনিক জাতিকে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, "তাঁর ডাক ও স্বাধীনতার ঘোষণা স্তম্ভিত জাতিকে আশার পথ দেখিয়েছিল এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছিল। তাঁর অসাধারণ সাহসিকতা, সামরিক কৌশল এবং যুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে 'বীর উত্তম' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।"
দেশ পুনর্গঠনে নেতৃত্ব
স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, নাগরিক স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব, ব্যাপক বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও লুটতরাজ রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে আসে। রাষ্ট্রপতি বলেন, "এমন সংকটময় মুহূর্তে সৈন্য ও জনতার যৌথ বিপ্লবের পটভূমিতে দেশের নেতৃত্বের দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত হয়। জাতির ইতিহাসের বিভিন্ন কঠিন সময়ে তিনি ত্রাণকর্তা ও উদ্ধারকারীর ভূমিকা পালন করেন। তাঁর অনন্য অবদান ও সফল নেতৃত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পথ দেখাবে।"
গণতন্ত্র ও উন্নয়নে অবদান
রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করে এই বিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ক বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং মতপ্রকাশ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, "ধর্ম, বর্ণ বা পাহাড়-সমতল নির্বিশেষে তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনায় গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন।" আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধি, আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে জিয়াউর রহমান বহুমুখী পরিকল্পনা ও যুগান্তকারী কর্মসূচি প্রবর্তন করেন। তাঁর ১৯ দফা কর্মসূচি একটি উৎপাদনশীল ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার নীলনকশা হিসেবে কাজ করেছিল।
কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন
কৃষি উন্নয়ন, খাল খনন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবার পরিকল্পনা, গ্রাম সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও গণশিক্ষার উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি জনগণকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় নিয়ে আসেন। যুব উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন, শিশু কল্যাণ এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারে তাঁর অবদান চির স্মরণীয়।
পররাষ্ট্রনীতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একটি সুষম পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, "মুসলিম বিশ্ব, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীন ও পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে তিনি মর্যাদাপূর্ণ, বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলেন।" তিনি প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য অঞ্চলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের শ্রমবাজারে প্রবেশের পথ সুগম করেন। তাঁর দূরদর্শী উদ্যোগের ফলে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। তাঁর সক্রিয় প্রচেষ্টায় দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত হয়।
স্বল্প সময়ে অসামান্য কৃতিত্ব
জিয়াউর রহমান দেশ পরিচালনার জন্য মাত্র অল্প সময় পেয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, "তবু সেই স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশপ্রেম, সততা, নিষ্ঠা ও দূরদর্শিতার সাথে তিনি জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, তা আজও উজ্জ্বল।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সরল ও নিঃস্বার্থ জীবন, দৃঢ় ব্যক্তিত্ব, প্রশ্নাতীত সততা এবং বাস্তববাদী ও উদ্যমী রাষ্ট্রনায়কের ভাবমূর্তি জনগণের হৃদয়ে চিরজীবী থাকবে। তিনি বলেন, "আমি আশা করি তাঁর কর্মময় জীবন, দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান, ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতার প্রতি অঙ্গীকার, আত্মনির্ভরশীল উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গি ও আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।"
রাষ্ট্রপতি মহান আল্লাহর কাছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ স্থান দান করার প্রার্থনা করেন।



