বিশ্বের রাজনৈতিক আকাশে প্রতিদিনই নতুন মেঘ জমছে, নতুন ঝড় উঠছে। বৈশ্বিক নীতি-নির্ধারণের নীরব সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে ভূ-রাজনীতির জটিল খেলা, কূটনীতির অদৃশ্য সুতো, সংঘাতের আগুন এবং প্রতিরক্ষা খাতের নীরব প্রস্তুতি- সবকিছু মিলিয়ে যেন এক অবিরাম পরিবর্তন চলছে। এই পরিবর্তনের প্রতিটি দৃশ্য আজকের বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে গড়ে তুলছে, ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। ২৯ মে (শুক্রবার) বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনগুলোর কয়েকটি পাঠকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাড়া ফেলেছে। ইরানের সঙ্গে ৬০ দিনের চুক্তিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, অপেক্ষা ট্রাম্পের সইয়ের; পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার ভূমিকায় কৃতজ্ঞ ইরানের প্রেসিডেন্ট; ‘এর অবসান হতে হবে’: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নিন্দা নিউইয়র্কের মেয়রের; গাজার ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার নির্দেশ নেতানিয়াহুর; মরুভূমিতে পরমাণু ঘাঁটির কাছে বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক গড়ছে চীন; যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি চূড়ান্ত নয়, খসড়া পরিবর্তনের দাবি তেহরানের- এই খবরগুলো নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলোর এই সংকলন।
ইরানের সঙ্গে ৬০ দিনের চুক্তিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, অপেক্ষা ট্রাম্পের সইয়ের
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতে বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। কাতারে মার্কিন ও ইরানি আলোচনাকারীরা ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর একটি কাঠামো বা ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। তবে এটি কার্যকর হতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন। এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিছুটা কমতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার ভূমিকায় কৃতজ্ঞ ইরানের প্রেসিডেন্ট
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধে চুক্তিতে পৌঁছাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ায় পাকিস্তান এবং মানবিক অবস্থানের জন্য মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান জানান, মালয়েশিয়া ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ‘কূটনীতির প্রতি ইরানের প্রতিশ্রুতি’র বিষয়টি জোর দিয়ে তুলে ধরেছেন। তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় এই দুই দেশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
‘এর অবসান হতে হবে’: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নিন্দা নিউইয়র্কের মেয়রের
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের তীব্র সমালোচনা করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। এই যুদ্ধ বেসামরিক নাগরিক এবং শ্রমজীবী পরিবারের ওপর যে বিশাল ধকল তৈরি করে চলেছে, তা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মামদানি বলেন, আজ থেকে তিন মাস আগে এমন একটি যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, যার পক্ষে কেউ ভোট দেয়নি অথচ এর মূল্য দিতে হয়েছে এমন মানুষদের, যাদের এ বিষয়ে কোনও মতামতই ছিল না। তিনি যুদ্ধের অবসানের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘এটির অবসান হতে হবে।’
গাজার ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
গাজা উপত্যকার ৭০ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত বৃহস্পতিবার এক সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় তিনি বলেন, আমরা বর্তমানে হামাসকে চেপে ধরেছি। আপনারা জানেন, আমরা এখন গাজা উপত্যকার ৬০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছি। তবে আমরা আরও এগিয়ে যাব এবং ৭০ শতাংশে পৌঁছাব। এই নির্দেশনার পর গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান আরও তীব্র হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মরুভূমিতে পরমাণু ঘাঁটির কাছে বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক গড়ছে চীন
যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনও আগাম পরমাণু হামলা রুখে দিতে এবং নিজেদের পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখতে এক দুর্গম মরুভূমিতে বিশাল সামরিক অবকাঠামো গড়ে তুলছে চীন। তাইওয়ান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির মাঝেই বেইজিংয়ের এই বিশাল গোপন পরমাণু আধুনিকায়নের তথ্য রয়টার্সের কাছে থাকা স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়েছে। চিত্রগুলোতে দেখা গেছে, একটি পরমাণু ঘাঁটির কাছে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো নির্মাণ করা হচ্ছে, যা চীনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি চূড়ান্ত নয়, খসড়া পরিবর্তনের দাবি তেহরানের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের খসড়ার লেখাগুলো সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পরিবর্তন করা হয়েছে এবং এটি এখনও চূড়ান্ত রূপ পায়নি। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে একটি সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্রটি সম্ভাব্য এই চুক্তি নিয়ে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনগুলোর সমালোচনা করে বলেছে, সেখানে প্রকাশিত কিছু তথ্য ‘সঠিক নয়’ এবং এতে বেশ কিছু ভুল ব্যাখ্যা রয়েছে। তেহরান খসড়ায় পরিবর্তন আনার দাবি জানিয়েছে, যা চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।



