সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে মাত্র ১০ মাস দায়িত্ব পালন করেছেন মো. সারওয়ার আলম। সাদাপাথর লুটের ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই তাকে জেলা প্রশাসক করা হয়েছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পরই পাথর লুটের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেন এবং সফলও হন। তবে এই সময়ের মধ্যে দায়িত্ব পালনকালে নানামুখী কাজের জন্য প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনার মুখেও পড়েন।
পাথর লুটের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা
দায়িত্ব গ্রহণের পরই পাথর লুটের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছিলেন সারওয়ার আলম। দায়িত্ব নেওয়ার ৮ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি ভোলাগঞ্জ ও সাদাপাথর এলাকায় অবৈধ পাথর মজুতের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন এবং বেশ কয়েকটি স্টোন ক্রাশার মিলের পাথর জব্দ করেন। তিনি বলেছিলেন, অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বা পাচারের চেষ্টা করা হলে বহনকারী ট্রাকসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাদাপাথর পরিদর্শনের পর ফেরার পথে কোম্পানীগঞ্জের টুকেরগাঁও এলাকায় বেশ কয়েকটি অবৈধ স্টোন ক্রাশার মিল ও পাথরের মজুত জব্দ করেন। এর মধ্য দিয়ে পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ আছে।
যত সমালোচনা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডিসি থাকাকালে সারওয়ার আলমের বিরুদ্ধে সমালোচনাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও আয়-ব্যয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং বিতর্কিত নিয়ন্ত্রণ, একটি হত্যা মামলার তদন্তে অসহযোগিতা এবং আদালতের আদেশ লঙ্ঘন এবং কিছু প্রশাসনিক কাজে ধীরগতি।
মাজারের অনুদান ও ব্যবস্থাপনা বিতর্ক
মাজারের ভক্তদের ভাষ্যমতে, হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের অংশ হিসেবে তিনি মাজারের দীর্ঘদিনের দান-অনুদান সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেন। দানবাক্স ও অর্থ সংগ্রহের তিনটি বড় দেগ সিলগালা করে দেন এবং প্রশাসনের অধীনে নতুন দানবাক্স ও সিসি ক্যামেরা বসান। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় এই আকস্মিক প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও পদক্ষেপ বিভিন্ন মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়। এই ঘটনার পরপরই তাকে জেলা প্রশাসক পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
মাজারের ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ
মাজারের দানবাক্স সিলগালা করে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং আনসার সদস্য মোতায়েন করার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। মাজারের খাদেম ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি ছিল, এর মাধ্যমে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা ধর্মীয় প্রথা ও ঐতিহ্য ভেঙে ফেলা হয়েছে।
প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ
অনেকের অভিযোগ ছিল, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হলেও এটি মূলত মাজারের দান ও ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থাপনার ওপর প্রশাসনের একচ্ছত্র প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ছিল।
ধর্মীয় মহলে অসন্তোষ
মাজারের দানবাক্স নিয়ন্ত্রণ ও মাজারের আয় ব্যবহার নিয়ে তার দেওয়া বক্তব্যকে অনেক আলেম এবং মাজার কমিটির ভক্তরা ‘মাজারবিরোধী’ অবস্থান হিসেবে উল্লেখ করেন, যা তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়।
দানবাক্স বসানোর বিষয়ে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বলেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাজারে দানের টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নেওয়ার একটা অনিয়মতান্ত্রিক পরম্পরা চালু হয়েছে। হজরত শাহজালাল (রহ.) অবিবাহিত ছিলেন, তার কোনও উত্তরাধিকার ছিলেন না। এখানে দানের যে টাকা আসে, সেটা পাবলিক সম্পত্তি। স্থানীয় প্রশাসন দানের টাকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির আওতায় আনতেই উদ্যোগী হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেছিলেন, দানের কোনও টাকা সরকার নেবে না। যাবতীয় অনিয়ম দূর করে সব টাকাই মাজার এবং মাজারের মসজিদ, মাদ্রাসার উন্নয়নে ব্যয় হবে। এ ছাড়া মাজার, মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়নে একটা মহাপরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে আহ্বায়ক করে খাদেম, মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রতিনিধিসহ ১০ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করে দেওয়া হয়েছে।
ডিসি সারোয়ারকে আদালতের শোকজ
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে তাজউদ্দিন নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় গুলির আদেশ প্রদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ না করায় জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিলেন আদালত। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি জানা যায়। সিলেটের আমলি আদালত নম্বর-২ এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত তালুকদার গত ৮ ফেব্রুয়ারি এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ধারাবহর এলাকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে তাজ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রুলী বেগম গোলাপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর গুলিতে তার স্বামী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়। পরবর্তী সময়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলার তদন্তের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক নূর মোহাম্মদ গত বছরের ২২ এপ্রিল সিলেটের জেলা প্রশাসক এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) শ্রীমঙ্গলের সেক্টর সদর দপ্তরের উপমহাপরিচালকের কাছে পৃথক দুটি আবেদন প্রেরণ করেন। এতে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে নির্দিষ্ট তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হয়। তথ্য না পেয়ে পিবিআই কর্মকর্তা আদালতে বিষয়টি জানালে গত বছরের ১৫ জুন আদালত জেলা প্রশাসক ও বিজিবির উপমহাপরিচালককে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তার চাহিত তথ্য সরবরাহের আদেশ দেন। পরে বিজিবি তথ্য সরবরাহ করে।
অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখা থেকে গোলাপগঞ্জের সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) তদন্তকারী কর্মকর্তার চাহিত তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে আর এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। পরে আরও কয়েক দফা আদালত তথ্য চেয়েও পাননি।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি আদালত জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। এতে উল্লেখ করার হয়, তদন্ত কর্মকর্তাকে কোনও তথ্য সরবরাহ না করায় মামলার তদন্তকাজ বিলম্বিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট মামলাটি দায়ের হলেও এখনও তদন্ত শেষ হয়নি। ফলে বিচারকাজও শুরু করা যাচ্ছে না। আদালত থেকে আদেশ প্রদান করার দীর্ঘদিন পরও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তার চাওয়া তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ না করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এটা সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল।
নোটিশে আরো উল্লেখ করা হয়, এমন কাজকে আদালতের আদেশ অমান্য ও বিচারকাজে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে গণ্য করে কেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না, অথবা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া যাবে না, তা ১৫ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর জন্য জেলা প্রশাসককে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জেলা প্রশাসক কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম তখন জানিয়েছেন, আদালত শোকজ দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে আমরা আদালতে জবাব দিয়েছি।
ডিসির বিরুদ্ধে মামলার অনুমতি চান আদালত
তাজউদ্দিন নিহতের মামলার তদন্তে অসহযোগিতা ও আদালতের আদেশ অমান্য করার অভিযোগে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের বিরুদ্ধে মামলার অনুমতি চেয়েছিলেন আদালত। গত ১ মার্চ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি অনুমতি গ্রহণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে অসহযোগিতার কারণে গত ৮ ফেব্রুয়ারি আদালত ডিসিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনও জবাব দেননি। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি এবং ১ মার্চ ধার্য তারিখেও তিনি আদালতের কাছে কোনও ব্যাখ্যা দেননি।
সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত তালুকদার তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হয়ে আদালতের আদেশ বারবার উপেক্ষা করা শুধু বেআইনিই নয়, বরং ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে চরম অন্তরায়।
ডিসির এ ধরনের কর্মকাণ্ড ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮৫ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার প্রক্রিয়া শুরু করতে হলে সরকারের পূর্বানুমতি প্রয়োজন। এ বিষয়ে আদালত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি অনুমতি গ্রহণ করে আদালতকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে সারওয়ার আলম গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, আদালত থেকে দেওয়া ১৫ দিনের সময়সীমার মধ্যেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে একবার একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল, তবে পরে আর কোনও ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।
কাজের ধীরগতি ও বাস্তবায়নে ঘাটতি
আগে অনেক প্রভাবশালী ও বিভিন্ন অপরাধমূলক চক্রের বিরুদ্ধে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সফল অভিযান চালিয়ে জনপ্রিয়তা পেলেও ডিসি হিসেবে তার কিছু পদক্ষেপ সমালোচিত হয়েছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ধীরগতি এবং সাদাপাথর পাথর লুটের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে বিলম্বের মতো বিষয়গুলোতেও তার প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ ছিল।
বিতর্কিত পদক্ষেপ ও অভিযোগের পাশাপাশি তার কিছু পদক্ষেপ যেমন মাজারের স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে বিভিন্ন মহল থেকে তার এই প্রত্যাহারের তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনাও করা হয়।
এসব নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের মধ্যে রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে মো. সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। একইসঙ্গে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
৭০০ বছরের রীতি ভাঙায় সমালোচনা
প্রত্যাহারের আদেশের পরদিন সোমবার দুপুরে ৭০০ বছরের প্রচলিত রীতি ভেঙে প্রথমবারের মতো হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগের অর্থ গণনার উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। প্রকাশ্যে পরিচালিত ওই গণনায় মাজারে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে স্থাপন করা তিনটি ডেগ ও একটি দানবাক্স থেকে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা নগদ অর্থ এবং সাত আনা সোনা পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন বলেন, ‘তিনটি ডেগ ও একটি দানবাক্স থেকে পাওয়া অর্থ সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামে খোলা একটি হিসাবে জমা রাখা হবে। সম্প্রতি এই হিসাব খোলা হয়েছে। পরবর্তীতে এ অর্থের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’



