সৎ ও যোগ্য প্রার্থী চায় জামায়াত, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রস্তুতি
সৎ ও যোগ্য প্রার্থী চায় জামায়াত, স্থানীয় নির্বাচনে প্রস্তুতি

জামায়াতে ইসলামী দেশের সব সিটি করপোরেশন, অধিকাংশ পৌরসভা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পরিষদসহ সব ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য অনানুষ্ঠানিক প্রস্তুতি নিয়েছে। দলটি সারা দেশে প্রার্থী তালিকায় সৎ, যোগ্য ও মেধাবীদের সমর্থন দিয়ে এগিয়ে রাখতে চায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচন কমিশন আরপিও সংশোধনসহ আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি নিচ্ছে।

প্রশাসক নিয়োগে ক্ষুব্ধ জামায়াত

সরকার নির্বাচন না দিয়ে সর্বত্র স্থানীয় সরকারের প্রশাসক নিয়োগ করায় ক্ষুব্ধ জামায়াত। জামায়াতের হাইকমান্ডের ধারণা ছিল, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেবে সরকার। কিন্তু সরকার সবকটি সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদসহ সর্বত্র দলীয় লোকদের প্রশাসক নিয়োগ দেয়।

ভিন্ন কৌশলে নির্বাচনের প্রস্তুতি

দলীয়ভাবে নির্বাচন না হলেও আটটি সিটি করপোরেশনে জামায়াত অঘোষিতভাবে তাদের সমর্থিত প্রার্থীদের নাম প্রস্তুত করে রেখেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন দলের মহানগর উত্তর শাখার আমির সেলিম উদ্দিন। ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমের নাম বিবেচনায় রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী, গাজীপুরে তুরস্কের গাজী উসমান পাশা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী অধ্যাপক হাফিজুর রহমান, বরিশালে দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, রংপুরে মহানগর শাখার আমির এ টি এম আজম খান, খুলনায় কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরীর আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এবং নারায়ণগঞ্জে মহানগর শাখার আমির মোহাম্মদ আবদুল জব্বার প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মাঠে তৎপর প্রার্থীরা

জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই ঢাকা উত্তর সিটিতে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন তৎপর রয়েছেন। তিনি নানা ধরনের সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজ করছেন এবং ঢাকাকে গ্রিন ও ক্লিন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান। প্রতিদিনই নানা কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে জামায়াত সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। অন্যান্য সিটিতেও মেয়র প্রার্থীরা সক্রিয় রয়েছেন এবং জনগণের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

কিছু সিটিতে প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি

দল থেকে রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে এসব সিটি করপোরেশনে প্রার্থিতা নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা চলছে। দেশের ৩৩১টি পৌরসভা এবং অধিকাংশ উপজেলায় যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান ও মেম্বর পর্যন্ত প্রার্থিতা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনের সাফল্যের ওপর ভরসা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা বিভাগ থেকে জামায়াতের অধিকাংশ প্রার্থী বিজয় পেয়েছে। সে হিসাবে ওইসব এলাকায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতেও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা ভালো করবেন বলে দলের কেউ কেউ মনে করছেন।

জামায়াতের দাবি: দ্রুত নির্বাচন

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সভাপতি ও দলের সহকারী জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম যুগান্তরকে বলেন, 'আমরা আশা করেছিলাম জাতীয় নির্বাচনের পরপরই পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেওয়া হবে। কিন্তু আমরা আশাহত, দেশের জনগণ আশাহত। বিএনপি স্থানীয় সরকারের নির্বাচন না দিয়ে সর্বত্র প্রশাসক নিয়োগ দিচ্ছে। এটা গণতন্ত্র ধ্বংসের আলামত।'

সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, 'এতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকারগুলো জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই পরিচালনা করবেন। কিন্তু সরকার সে পথে না গিয়ে দলীয় লোকদের বিভিন্ন পর্যায়ে বড় বড় পদে বসাচ্ছে। এটা হলো গোটা রাষ্ট্রযন্ত্রকে দলীয়করণের অপকৌশল। আমরা দলীয়ভাবে প্রশাসক নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়েছি। এখনো দাবি জানাই, দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার জন্য।'

তিনি আরও বলেন, 'দেশের সব সিটি করপোরেশনে জামায়াত চায় সৎ, যোগ্য নেতা নির্বাচিত হোক। ভালো প্রার্থীদের পাশে থাকবে জামায়াত। কিছু প্রার্থী মাঠে আছেন। নির্বাচনের গ্রাউন্ডওয়ার্ক বলতে যা বোঝায় তা তারা করছেন। উপজেলাগুলোতে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং পৌরসভাতে মেয়র, কাউন্সিলর পদে আমরা যোগ্য মেধাবী ও সৎ লোকদের প্রার্থী হিসাবে দেখতে চাই। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বর পর্যন্ত পরিচিত, গণমানুষের সেবায় নিয়োজিত লোকজনকে পরোক্ষভাবে সমর্থন দেবে জামায়াত।'