অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন। এই বাজেটের আকার আগের অর্থবছরের তুলনায় ১২.৪ শতাংশ বেশি।
বাজেটের মূল লক্ষ্য
অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, 'এ বাজেটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা।' তিনি আরও বলেন, 'সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭.৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করা।'
কর ও রাজস্ব আয়
বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে কর রাজস্ব ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা এবং অকর রাজস্ব ৭২ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া বিদেশি অনুদান ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
ব্যয় বরাদ্দ
বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা, যার মধ্যে চলতি ব্যয় ৪ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া অন্যান্য ব্যয় বাবদ ৬৬ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
খাতভিত্তিক বরাদ্দ
শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৭২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য খাতে ৩২ হাজার কোটি টাকা, কৃষি খাতে ২৫ হাজার কোটি টাকা, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা এবং অবকাঠামো খাতে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ
অর্থমন্ত্রী বলেন, 'মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। আশা করছি, আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।' বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ৯.৩ শতাংশ।
বাজেট ঘাটতি ও অর্থায়ন
বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫.২ শতাংশ। এই ঘাটতি ব্যাংক ব্যবস্থা ও সঞ্চয়পত্র থেকে ১ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশি উৎস থেকে ১ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে পূরণ করা হবে।
প্রতিক্রিয়া
বাজেট পেশের পর বিরোধী দলের সদস্যরা বিভিন্ন সমালোচনা করেন। বিএনপির সাংসদ হারুনুর রশিদ বলেন, 'এই বাজেট সাধারণ মানুষের জন্য কিছুই নিয়ে আসেনি। বরং করের বোঝা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।'



